জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, বিএনপিকে এই মুহূর্তে তিনি 'চাঁদাবাজ' হিসেবে অভিহিত করতে চান না। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা যদি চাঁদাবাজিতে জড়ান, তবে তাদের অবশ্যই চাঁদাবাজ বলা হবে। একইভাবে জমি দখল করলে তাদের দখলবাজ এবং ছাত্রদল ও যুবদলকে ব্যবহার করে মাদক ব্যবসার সাথে যুক্ত হলে তাদের মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। শনিবার দুপুরে কুমিল্লা মহানগরসহ কুমিল্লা দক্ষিণ ও উত্তর জেলার নেতাকর্মীদের নিয়ে আয়োজিত এক সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই হুঁশিয়ারি প্রদান করেন।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে সারজিস আলম লক্ষ্য করেন যে, মাত্র ১৮০ দিন অতিবাহিত হতে না হতেই সাধারণ মানুষ বিএনপির সঙ্গে অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তির তুলনা শুরু করেছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আগামী এক বছরের মধ্যে যদি এনসিপি প্রতিটি ঘরে ঘরে যোগ্য নেতা তৈরি করতে সক্ষম হয়, তবে এক বছর পর বাংলাদেশের মানুষ আর বিএনপির কথা চিন্তা করবে না। দলের সাংগঠনিক কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, ভবিষ্যতে এনসিপিতে ৩০ বছরের নিচে কাউকে গ্রহণ করা হবে না। তার মতে, যদি ২৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী কর্মীদের সরাসরি মূল দলে যুক্ত করা যায়, তবে যুবশক্তির নামে আলাদা কোনো সংগঠন রাখার প্রয়োজনীয়তা থাকবে না। তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, একটি অঙ্গসংগঠন তৈরি করে তাদের কার্যকরভাবে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ না দিলে সেই সংগঠন শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়ে পড়বে।
বিএনপির বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে সমালোচনা করে সারজিস আলম বলেন, বিএনপির কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে তারা ব্যর্থতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, এনসিপি বিএনপিকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে এখনই তুলনা করতে চায় না। আওয়ামী লীগ এবং বিএনপিকে এনসিপি সম্পূর্ণ আলাদা দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখে এবং ভিন্নভাবে মূল্যায়ন করে।
অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের অতীত কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেন সারজিস আলম। তিনি ২০০৯ সালের বিডিআর হত্যাকাণ্ড, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের রক্তক্ষয়ী হত্যাকাণ্ড এবং মোদিবিরোধী আন্দোলনের সময় সাধারণ মানুষের হত্যার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের নেতাদের দেশত্যাগ করার প্রসঙ্গ টেনে তিনি তাদের 'নরপিশাচ' হিসেবে অভিহিত করেন। এনসিপি অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে আপসহীন থাকবে বলে দাবি করে তিনি বলেন, "আমাদের হয়তো চোখ তুলে নেওয়া হবে, রক্তাক্ত করা হবে, তবুও আমরা অন্যায়ের কাছে মাথা নত করব না। মানুষ আমাদের এখনো একটি কারণেই পছন্দ করে—আমরা অন্যায়ের সঙ্গে কোনোভাবেই আপস করি না।"
বিএনপির সঙ্গে এনসিপির মৌলিক পার্থক্য তুলে ধরে সারজিস আলম অভিযোগ করেন, অতীতে সংসদীয় রাজনীতিতে এক অদ্ভুত সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, যেখানে দিনের বেলায় প্রকাশ্য বিরোধিতা করা হতো আর রাতে গোপন নেগোসিয়েশন বা সমঝোতা চলত। এমনকি ক্ষমতা এবং অর্থের ভাগাভাগি নিয়েও সমঝোতা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, এনসিপি এ ধরনের সমঝোতার রাজনীতি করবে না, কারণ তেমনটা করলে দলের কোনো রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ থাকবে না।
উক্ত সভায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব ও রাজনীতিবিদ জয়নাল আবেদীন শিশির, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং ডায়াস্পোরা বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য নাভিদ নওরোজ শাহ, যুবশক্তির আহ্বায়ক তরিকুল ইসলামসহ এনসিপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব ও নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


















