লন্ডনের ব্র্যাডি আর্টস সেন্টারে সম্প্রতি এক বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হলো 'গ্লোউইমেন ফেয়ার অ্যান্ড কালচারাল ইভেন্ট ২০২৬'। টাওয়ার হ্যামলেটস সাউথ এশিয়ান হেরিটেজ মান্থ-এর বিশেষ অঙ্গ হিসেবে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি ছিল প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক অনন্য মিলনমেলা। গ্লোউইমেন সিআইসি-র প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক স্নিগ্ধা মিষ্টির সুদক্ষ নেতৃত্বে এবারের আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘গ্লো উইমেন, গো গ্লোবাল’। নারী ক্ষমতায়ন, সামাজিক সচেতনতা এবং বাংলা সংস্কৃতির সমৃদ্ধ ঐতিহ্যকে বিশ্বদরবারে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার লক্ষ্যেই এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

আয়োজকদের দৃঢ় বিশ্বাস, একজন আত্মবিশ্বাসী ও স্বাবলম্বী নারী কেবল নিজের জীবনকেই পরিবর্তন করেন না, বরং তিনি তাঁর পরিবারের সদস্য, সমাজ এবং আগামীর ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও আলোকিত করতে সক্ষম। অনুষ্ঠানের সূচনা হয় অত্যন্ত গুরুত্ববহ এক আলোচনা পর্বের মাধ্যমে। নারী নেতৃত্ব, ক্ষমতায়ন, সামাজিক সচেতনতা এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়, যার সঞ্চালনা করেন মাহিরান জান্নাত। বিশেষ করে, নারীদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে জরায়ুমুখ ক্যানসার (সার্ভিক্যাল ক্যানসার) বিষয়ে একটি বিশেষ প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যা উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও সচেতনতা তৈরি করে।

আলোচনা পর্বের পর শুরু হয় মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, যার সঞ্চালনাও করেন মাহিরান নেছা জান্নাত। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁদের অমর গান, কবিতা এবং জীবনদর্শনভিত্তিক বিভিন্ন পরিবেশনা মঞ্চস্থ করা হয়। এই সাংস্কৃতিক আয়োজনে সংগীত, আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশন করেন প্রতিভাবান শিল্পীবৃন্দ—মহামিতা, মোহনা, আজিজা সুমি, জিনাত শফিক, সিনথিয়া দাস, গঙ্গা রায়, সৌম্যেন অধিকারী, সাদমান, নাফিজ জয়, জীবন আহমেদ, জান্নাত এবং বন্যা তালুকদার। তাঁদের নিপুণ পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে।

অনুষ্ঠানের চূড়ান্ত পর্যায়ে জনপ্রিয় লোকসংগীতশিল্পী নোলক বাবু তাঁর প্রাণবন্ত ও সুরম্য পরিবেশনা দিয়ে পুরো পরিবেশকে উৎসবমুখর করে তোলেন। প্রবাসে বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চাকে আরও বেগবান করা, নতুন প্রজন্মের সন্তানদের নিজেদের শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত করা এবং বৈচিত্র্যের মাঝে সামাজিক সম্প্রীতি গড়ে তোলাই ছিল এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। পুরো অনুষ্ঠানের মিডিয়া পার্টনার হিসেবে ছিল এটিএন বাংলা ইউকে। অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে গ্লোউইমেন সিআইসি-র পক্ষ থেকে নারী ক্ষমতায়ন, সামাজিক সচেতনতা এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে ভবিষ্যতেও নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।