লেবাননের যুদ্ধবিধ্বস্ত নাবাতিয়ে অঞ্চলে এক মর্মান্তিক ড্রোন হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন তিন বাংলাদেশি প্রবাসী। আহতদের মধ্যে রয়েছেন প্রবাসী নারী কর্মী মেজিনা, তার শিশু সন্তান মরিয়াম এবং আরেক প্রবাসী বাংলাদেশি মোহাম্মদ মমিনুল হক। জানা গেছে, নিকটস্থ একটি দোকান থেকে কেনাকাটা শেষ করে তারা যখন মোটরসাইকেলে করে তাদের আবাসস্থলের দিকে ফিরছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তেই ইসরায়েলি ড্রোন হামলা চালানো হয়। এই আকস্মিক ও ভয়াবহ হামলায় তারা মারাত্মকভাবে আহত হন।

রক্তাক্ত অবস্থায় তাদের দ্রুত নিকটস্থ তুল এলাকার রাগেব হারেব হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে তাদের জরুরি চিকিৎসা প্রদান করা হয়। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মেজিনার বাম পা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চিকিৎসকরা তা কেটে ফেলতে বাধ্য হন। এছাড়া তার ডান পা এবং শরীরের পেছনের অংশ স্প্লিন্টারের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়ে। হামলায় শিশু মরিয়ামের বাম হাত এবং মোহাম্মদ মমিনুল হকের ডান পা ভেঙে যায়।

আহত বাংলাদেশিদের এই করুণ সংবাদের সাথে সাথে বৈরুতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস সক্রিয় হয়ে ওঠে। দূতাবাস কর্তৃপক্ষ দ্রুত স্থানীয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে এবং তাদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় সমন্বয় সাধন করে। যেহেতু দুর্ঘটনাটি লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের যুদ্ধপীড়িত এলাকায় ঘটেছিল, তাই চিকিৎসার জটিলতা বিবেচনায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর লেবানন দপ্তরের সাথে যোগাযোগ করা হয়। ডব্লিউএইচও-র সহায়তায় তারা প্রয়োজনীয় প্রাথমিক ও জরুরি চিকিৎসা সেবা পেতে থাকেন।

নাবতিয়ের তুল এলাকার রাগেব হারেব হাসপাতালে প্রায় এক মাস চিকিৎসার পর, তাদের আরও উন্নত ও বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রয়োজন দেখা দেয়। সেই লক্ষ্যে গত ২৫ জুন (বৃহস্পতিবার) তাদের বৈরুতের বিখ্যাত আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব বৈরুত (AUB) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সম্পন্ন করার পর ১ জুলাই (বুধবার) তাদের পার্শ্ববর্তী একটি হোটেলে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় স্থানান্তরিত করা হয়, যেখানে বর্তমানে তাদের সেবা প্রদান করা হচ্ছে।

বর্তমানে শিশু মরিয়ামের উন্নত চিকিৎসা চলছে প্রখ্যাত সার্জন গাসসান আবু সিত্তাহ'র তত্ত্বাবধানে পরিচালিত 'গাসসান আবু সিত্তাহ ফাউন্ডেশন'-এর সহায়তায়। পাশাপাশি শিশুর অভিভাবক হিসেবে মা মেজিনা এবং মোহাম্মদ মমিনুল হকের চিকিৎসাও অব্যাহত রয়েছে।

গত ৪ জুলাই (শুক্রবার) বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন ব্যক্তিগতভাবে ওই হোটেলে গিয়ে আহত প্রবাসীদের সাথে সাক্ষাৎ করেন। তিনি তাদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং দূতাবাসের পক্ষ থেকে তাদের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ও খাদ্য সহায়তা প্রদান করেন। এ সময় তিনি আহতদের আশ্বস্ত করে বলেন যে, বাংলাদেশ দূতাবাস তাদের পাশে থাকবে এবং পূর্ণ সুস্থ হয়ে দেশে ফেরার আগ পর্যন্ত সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখা হবে।