ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিন বলেছেন, নির্বাচিত হলে কৃষকদের সারের সমস্যা সমাধানে সংসদে গিয়ে খোলা বাজারে সার বিক্রির ব্যবস্থা করবেন। পাশাপাশি এলাকার রাস্তাঘাট পাকা করা, মাদক নির্মূল এবং ঠাকুরগাঁও শহরকে আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ঠাকুরগাঁওয়ের নবগঠিত ভুল্লী উপজেলার দেবীপুর ইউনিয়নে এক নির্বাচনী উঠান বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফয়সল আমিন বলেন, কয়েক দিন আগে এ আসনের মানুষ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ভোট দিয়েছিলেন। তিনি নির্বাচিত হয়ে মন্ত্রী হয়েছিলেন এবং এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। ভুল্লী-রুহিয়াকে উপজেলা করা, ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ও নার্সিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, এসব উন্নয়নকাজ সামনের দিকে এগিয়ে নিতে একজন সংসদ সদস্য প্রয়োজন। এ জন্য তিনি ভোটারদের কাছে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে তাঁকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।
কৃষকদের সমস্যা তুলে ধরে বিএনপির এই প্রার্থী বলেন, এলাকার কৃষকেরা সারের সংকটে ভুগছেন। নির্বাচিত হলে সংসদে গিয়ে খোলা বাজারে সার বিক্রির ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেবেন। একই সঙ্গে এলাকার যেসব রাস্তা এখনো চলাচলের অনুপযোগী, সেগুলো পাকা করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
ধর্মীয় সম্প্রীতির বিষয়ে মির্জা ফয়সল আমিন বলেন, হিন্দু-মুসলিমসহ বাংলাদেশের সব মানুষকে মিলেমিশে বসবাস করতে হবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই সমান অধিকার ও নাগরিক সুবিধা ভোগ করবেন। মানুষের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না—এমন সমাজ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। এ সময় তিনি জানান, এলাকার একটি মন্দিরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ইতোমধ্যে দুই লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন।
মাদক সমস্যাকে এলাকার অন্যতম বড় সমস্যা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে ঠাকুরগাঁও থেকে মাদক নির্মূলে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের এ ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি প্রশাসনের প্রতিও মাদক বন্ধে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
ঠাকুরগাঁও শহরের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে মির্জা ফয়সল আমিন বলেন, শহরের চারপাশ দিয়ে একটি রিং রোড নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। সড়কটি বাইপাস হিসেবে কাজ করবে এবং বিভিন্ন উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করতে ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, ঠাকুরগাঁওকে একটি সুন্দর, আধুনিক ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন রয়েছে তাঁর। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উন্নত শহর নির্মাণের ক্ষেত্রে জনগণের সিদ্ধান্তই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
উঠান বৈঠকে তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, এলাকার উন্নয়ন অব্যাহত রাখা, কৃষকদের সমস্যা সমাধান, মাদক নির্মূল ও আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য তাঁকে নির্বাচিত করার সিদ্ধান্ত জনগণকেই নিতে হবে


















