প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি। আজ মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এর মধ্য দিয়ে মন্ত্রিসভা থেকে তার আনুষ্ঠানিক বিদায় নিশ্চিত হলো। তার পদত্যাগের ফলে সরকারে প্রতিমন্ত্রীর সংখ্যা দাঁড়াল ২৩ জনে। প্রধানমন্ত্রীসহ পূর্ণ মন্ত্রী রয়েছেন ২৭ জন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আট মাসের সরকারে এর আগে দুজন পূর্ণমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। তাদের মধ্যে দীপেন দেওয়ান পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী এবং জহির উদ্দিন স্বপন তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। গতকাল সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। বর্তমানে ওই মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন আহমেদ আযম খান। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গতকাল সোমবার সন্ধ্যার দিকে ইশরাক লিখিত পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী তা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়। রাষ্ট্রপতি তা গ্রহণ করার পর আজ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে প্রকাশ্যে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ব্যাপক বিতর্কের মুখে পড়েন ঢাকা-৬ আসনের এই সংসদ সদস্য। অভিযানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। ঘটনার জেরে গত রোববার বিকেলে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ইশরাক হোসেনকে ডেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর গতকাল দুপুরে সংবাদ সম্মেলন ডেকে পদত্যাগের কথা জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন দাবি করেন, আত্মরক্ষার স্বার্থেই তিনি সাময়িকভাবে অস্ত্র হাতে নিয়েছিলেন এবং কোনো আইন লঙ্ঘন করেননি। তবে দলের ভাবমূর্তি রক্ষা ও সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখতেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পদে না থাকলেও সাধারণ দলীয় কর্মী হিসেবে মাদকের বিরুদ্ধে নিজের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবেন বলেও ঘোষণা দেন তিনি।