ব্রাজিল বনাম জাপানের হাইভোল্টেজ মহারণের আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। ফুটবল বিশ্বের দুই ভিন্ন প্রান্তের দুই শক্তির এই লড়াইয়ে এখন সারা বিশ্বের নজর। এই মহাগুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধের আগে রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে এসে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন সেলেসাওদের রুখে দেওয়ার পূর্ণাঙ্গ রণপরিকল্পনা এবং নকশা স্পষ্ট করেছেন ‘ব্লু সামুরাইদের’ প্রধান কোচ হাজিমে মোরিয়াসু। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বধ করে ফুটবল ইতিহাসে আরও একটি রূপকথা লেখার সামর্থ্য জাপানের আছে—এমনটাই দৃঢ় বিশ্বাস এই কোচের। মাঠের লড়াইয়ে ব্রাজিলকে এক চুলও ছাড় না দেওয়ার খোলা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন তিনি।
ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে জাপানের কোচ মোরিয়াসু বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে গ্রুপ পর্বের তিনটি অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ খেলেছি এবং আমাদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবেই পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছি। এটা আসলে আমাদের দীর্ঘমেয়াদী ও ধারাবাহিক প্রক্রিয়ারই একটা অংশ। সত্যি বলতে, আসল বিশ্বকাপ তো শুরু হচ্ছে এখন থেকেই। দল এখন পর্যন্ত দারুণ ফুটবল খেলেছে, যদিও প্রতিটি ম্যাচই ছিল বেশ কঠিন এবং চ্যালেঞ্জিং।’
ব্রাজিলকে সমীহ করলেও জয়ের ব্যাপারে প্রবল হুঙ্কার ছুঁড়েছেন জাপান কোচ। মোরিয়াসু যোগ করেন, ‘সামনে আমাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন এক প্রতিপক্ষ অপেক্ষা করছে। এই ম্যাচে জয় তুলে নিতে হলে আমাদের নিজেদের সেরা ফুটবলটাই খেলতে হবে। একই সঙ্গে আমরা মাঠে আমাদের দলের উন্নতির গ্রাফটাও ফুটিয়ে তুলতে চাই। ব্রাজিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে পারে, তবে আমরা তাদের ছেড়ে কথা বলব না; মাঠের লড়াইয়ে তাদের সর্বোচ্চ চ্যালেঞ্জ জানাতে আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত।’
গ্রুপ 'এফ' থেকে রানার্স-আপ হয়ে নকআউট পর্বের টিকিট কেটেছে জাপান। তাদের এই যাত্রা ছিল নাটকীয় ও রোমাঞ্চকর। নিজেদের প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করার পর, দ্বিতীয় ম্যাচে তিউনিসিয়াকে ৪-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে তারা নিজেদের শক্তির জানান দেয়। আর শেষ ম্যাচে সুইডেনের সাথে ১-১ গোলের ড্রয়ে শেষ বত্রিশ নিশ্চিত করে নকআউট পর্বে প্রবেশ করে এই এশিয়ান পরাশক্তি।
সংবাদ সম্মেলনে ব্রাজিলকে গত বছর হারানোর স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে মোরিয়াসু বলেন, ‘গত বছর ব্রাজিলের বিপক্ষে একটা প্রীতি ম্যাচ খেলেছিলাম আমরা এবং সেই ম্যাচে আমরা জয় পেয়েছিলাম। ওটাই ছিল তাদের সাথে আমাদের শেষ দেখা। অবশ্যই বিশ্বকাপের ইতিহাস ঘাটলে দেখা যাবে, বিশ্বমঞ্চে ব্রাজিলের বিপক্ষে আমরা কখনই জিততে পারিনি। তবে বর্তমান সময়ে আমাদের দলের অনেক উন্নতি হয়েছে এবং আমরা এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী।’
সেই প্রীতি ম্যাচের জয় এবার চাপ ও প্রত্যাশা দুটোই বাড়িয়ে দিয়েছে উল্লেখ করে জাপান কোচ আরও যোগ করেন, ‘গত বছরের সেই জয়ের কারণে এই ম্যাচ নিয়ে আমাদের ওপর চাপ ও দাবি আরও বেড়ে গেছে। তবে ওই প্রীতি ম্যাচের ব্রাজিল আর এই বিশ্বকাপের ব্রাজিলের মধ্যে অনেক তফাত আছে। তারা যেমন অনুপ্রাণিত, আমরাও ঠিক তেমনি। দুই দলই জয় ছাড়া অন্য কিছু ভাবছে না। আমার ধারণা, মাঠের লড়াইটা আজ চরম উত্তেজনাকর হবে। আমাদের বিশ্বাস আছে যে আমরা জিততে পারি, যা প্রীতি ম্যাচেই প্রমাণিত। তবে ২৯ জুনের এই ম্যাচটা হবে আরও অনেক বেশি কঠিন। আর জয় নিশ্চিত করতে হলে আমাদের দলের প্রতিটি সদস্যকে শতভাগ উজাড় করে দিতে হবে।’
বিশ্বকাপ জয়ের ব্যাপারে নিজেদের অদম্য আত্মবিশ্বাসের কথা জানিয়ে মোরিয়াসু আরও বলেন, ‘অনেকে হয়তো ভাবছেন আমরা কেবল ভালো খেলার জন্যই খেলছি, কিন্তু আমাদের মনে মনে দৃঢ় বিশ্বাস আছে যে আমরা এই বিশ্বকাপ জিততে পারি। অবশ্যই প্রতিপক্ষ যখন ব্রাজিল—যারা বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের অন্যতম শীর্ষ দল—তখন অনেকেই হয়তো জাপানকে আন্ডারডগ বা পিছিয়ে থাকা দল হিসেবেই গণ্য করবেন। আমরা প্রতিপক্ষকে সমীহ করেই মাঠে নামবো, তবে গত বছরের জয়ের মতো এবারও জেতার পূর্ণ বিশ্বাস নিয়েই লড়বো। মানুষ যেন আমাদের এমন একটা দল হিসেবে দেখে, যাদের বিশ্বসেরাদের হারানোর সবটুকু সামর্থ্য আছে—এটা আমাদের জন্য খুবই জরুরি।’
তবে এই ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচের আগে জাপানি শিবিরে বড় এক ধাক্কার খবরও নিশ্চিত করেছেন মোরিয়াসু। দলের অন্যতম বড় তারকা তাকেফুসা কুবো সোমবারের এই মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ থেকে চূড়ান্তভাবে ছিটকে গেছেন। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই ডান প্রান্তের এই উইঙ্গার গুরুতর চোট পেয়েছিলেন। কুবোর বর্তমান অবস্থা নিয়ে কোচ জানান, ‘ও দলের সঙ্গে মূল অনুশীলনে অংশ নিতে পারেনি, কেবল একা একা কিছুটা রানিং করেছে। ব্রাজিলের বিপক্ষে এই ম্যাচে ও খেলছে না। আমরা আশা করছি ও দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে এবং ও নিজেও মাঠে ফিরতে উন্মুখ হয়ে আছে।’











