সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এইচএসসি পরীক্ষা সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তিকে সম্পূর্ণ ভুয়া, মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বলে অভিহিত করেছে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি। সম্প্রতি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া এই তথ্যের মাধ্যমে পরীক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ায় কমিটি দ্রুত এই সতর্কবার্তা জারি করেছে। গুজবে কান না দিয়ে কেবল সরকারি ও শিক্ষা বোর্ডের অফিসিয়াল সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ওপর নির্ভর করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক জেসমিন তাসলিমা বানুর স্বাক্ষরিত এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে এই বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়। ওই বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি’র নাম ব্যবহার করে একটি বানোয়াট বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হচ্ছে। উক্ত ভুয়া বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়েছে, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আগামী ২৭ জুলাই ২০২৬ তারিখ থেকে পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হবে। তবে কমিটি নিশ্চিত করেছে যে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি এবং এই ধরনের কোনো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি আরও পরিষ্কার করে জানিয়েছে, ওই বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রাম কিংবা বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই। এটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ভিত্তিহীন একটি প্রচারণামাত্র।

কমিটি আরও মনে করিয়ে দিয়েছে যে, এইচএসসি পরীক্ষা সংক্রান্ত যাবতীয় সিদ্ধান্ত, বিজ্ঞপ্তি ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে নিয়মিত প্রকাশ করা হয়। তাই যেকোনো তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ে কেবল এই মাধ্যমগুলো অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি জনস্বার্থে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছে কমিটি। তারা অনুরোধ করেছে যেন কেউ অতিরঞ্জিত বা যাচাইহীন তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে আতঙ্ক বা বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করেন। কেবল নির্ভরযোগ্য সরকারি সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুসরণ করাই হবে এই মুহূর্তে সর্বোত্তম পদক্ষেপ।