দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপের আঙিনায় ফিরে চমক দিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিচ্ছে নরওয়ে। তাদের এই অবিশ্বাস্য অগ্রযাত্রার মূল কারিগর দলের প্রধান তারকা আর্লিং হালান্ড। তার অনবদ্য গোল করার ক্ষমতার ওপর ভর করে সবশেষ ম্যাচে শক্তিশালী ব্রাজিলকে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে নরওয়ে। এবার সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ ফুটবল বিশ্বের অন্যতম ফেভারিট দল ইংল্যান্ড। গত তিন আসরে দ্বিতীয়বারের মতো সেমিফাইনালে ওঠার সুযোগ এখন ‘থ্রি লায়ন্সদের’ সামনে।

তবে এই হাইভোল্টেজ মহারণের আগে প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ডকেই বেশি এগিয়ে রাখছেন নরওয়েজিয়ান গোলমেশিন হালান্ড। আগামী শনিবার রাতে মায়ামিতে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে হালান্ড যেন এক ধরনের ‘মাইন্ড গেম’ খেলছেন, এমন দাবি করেছেন ইংলিশ ডিফেন্ডার নিকো ও’রিলি। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার বলেছিলেন, ‘নরওয়ের বিশ্বকাপ জেতার সম্ভাবনা খুবই কম। তাই সব চাপ থাকবে ইংল্যান্ডের ওপরেই। আমি মনে করি তারা এই টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট।’ এরপর মুচকি হেসে তিনি যোগ করেন, ‘আমার মনে হয় আপনাদের সবার উচিত সব চাপ ইংল্যান্ডের ওপর দেওয়া।’

মজার বিষয় হলো, ও’রিলি ছাড়াও মার্ক গুয়েহি এবং জন স্টোনসের সঙ্গে ম্যানচেস্টার সিটির ড্রেসিংরুমে একসঙ্গে সময় কাটিয়েছেন হালান্ড। এবার জাতীয় দলের জার্সিতে তাদেরই বিপক্ষেই খেলতে নামছেন তিনি। লিডসে জন্ম নেওয়া হালান্ড এই ম্যাচটিকে বিশেষ বলে মনে করেন। তিনি বলেন, ‘এটি অবশ্যই একটি বিশেষ ম্যাচ। আমার জন্য এটি মহাবিশেষ, কারণ আমি ইংল্যান্ডেই খেলি এবং সেখানেই আমার জন্ম। এই লড়াইটি অত্যন্ত মজার এবং দারুণ হতে যাচ্ছে।’

ইংল্যান্ডের ওপর চাপ সৃষ্টির এই কৌশল নিয়ে ও’রিলি বলেন, ‘হ্যাঁ, এটি স্পষ্টতই একটি মাইন্ড গেম। তবে তারা সত্যিই একটি ভালো দল এবং পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে তারা নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করেছে। কোনো নির্দিষ্ট খেলোয়াড়কে নিয়ে আমাদের আলাদা করে চিন্তার প্রয়োজন নেই। তারা দলগতভাবে শক্তিশালী এবং সামনে একটি দারুণ ম্যাচ অপেক্ষা করছে।’

বিশ্বকাপের অভিষেকেই চার ম্যাচে সাত গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে আছেন হালান্ড। যদিও লিওনেল মেসি এবং কিলিয়ান এমবাপ্পে আটটি গোল করে তার সামান্য উপরে অবস্থান করছেন। ও’রিলির মতে, হালান্ডকে দমিয়ে রাখতে পারলেই ইংল্যান্ডের সেমিফাইনালে ওঠার পথ সহজ হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই জানি সে কতটা ভয়ঙ্কর। সে যেকোনো মুহূর্তে গোল করতে পারে এবং বক্সের ভেতরে সে অত্যন্ত বিপজ্জনক। সে দলের জন্য সত্যিকারের হুমকি। তবে তাকে গোল করতে হলে প্রথমে তার কাছে বল পৌঁছাতে হবে। আমি মনে করি আর্লিংকে কার্যকরভাবে দমিয়ে রাখতে পারলে ম্যাচটি জেতার দারুণ সুযোগ থাকবে আমাদের।’