খেতাবপ্রাপ্ত, যুদ্ধাহত এবং শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানি ভাতা ও আর্থিক সুবিধার হার পুনর্নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ সরকার। গত ১৫ জুলাই মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এসংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, যার মাধ্যমে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নতুন আর্থিক সুযোগ-সুবিধার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই সংশোধিত ভাতার হার গত ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধে অসীম সাহসিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য মূল সম্মানি ভাতার হার বৃদ্ধি করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী, বীর উত্তম খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধারা প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা এবং বীর বিক্রম ও বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধারা ২৫ হাজার টাকা করে মূল সম্মানি ভাতা পাবেন।
অন্যদিকে, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষেত্রে পঙ্গুত্বের মাত্রা বিবেচনা করে তাদের সুযোগ-সুবিধাকে ‘এ’, ‘বি’, ‘সি’ এবং ‘ডি’—এই চারটি শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়েছে। যার মধ্যে ৯৬ থেকে ১০০ শতাংশ পঙ্গুত্বসম্পন্ন ‘এ’ শ্রেণির যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য মাসিক মূল ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। এর পাশাপাশি ২ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা এবং ৫ হাজার টাকা খাদ্য ভাতা মিলিয়ে তাদের মাসিক নিয়মিত সুবিধা হবে মোট ৩৭ হাজার টাকা। তবে জীবিত ‘এ’ শ্রেণির যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সরকার অতিরিক্ত সহায়ক ভাতা হিসেবে মাসে আরও ৮ হাজার টাকা প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে জীবিত থাকা অবস্থায় তারা প্রতি মাসে মোট ৪৫ হাজার টাকা পাবেন। তবে উল্লেখ্য যে, সংশ্লিষ্ট বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুর পর তার উত্তরাধিকারীরা এই অতিরিক্ত ৮ হাজার টাকার সহায়ক ভাতা পাবেন না।
৬১ থেকে ৯৫ শতাংশ পঙ্গুত্বসম্পন্ন ‘বি’ শ্রেণির যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য মাসিক মূল ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৮ হাজার টাকা। চিকিৎসা ও খাদ্য ভাতাসহ তাদের মোট মাসিক সুবিধা হবে ৩৫ হাজার টাকা। এছাড়া ২০ থেকে ৬০ শতাংশ পঙ্গুত্বসম্পন্ন ‘সি’ শ্রেণির যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মূল ভাতা হবে ২৩ হাজার টাকা এবং চিকিৎসা ও খাদ্য ভাতাসহ তারা প্রতি মাসে মোট ৩০ হাজার টাকা পাবেন। ১ থেকে ১৯ শতাংশ পঙ্গুত্বসম্পন্ন ‘ডি’ শ্রেণির যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মূল ভাতা ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর সাথে ২ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা এবং ৫ হাজার টাকা খাদ্য ভাতা মিলিয়ে তাদের মাসিক মোট ভাতার পরিমাণ হবে ২৭ হাজার টাকা।
আর্থিক সুবিধার পাশাপাশি উৎসব ভাতার বিষয়েও স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষেত্রে বছরে দুটি উৎসব ভাতার প্রতিটির পরিমাণ হবে তাদের নিজ নিজ মূল ভাতার সমান। এছাড়া জীবিত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা প্রতি বছর মহান বিজয় দিবসে ৫ হাজার টাকা এবং বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে ২ হাজার টাকা করে বিশেষ অনুদান পাবেন।
সরকার মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ২০১৮ সালের ধারা ৩ এর উপধারা (১)-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। মহান মুক্তিযুদ্ধে অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ খেতাবপ্রাপ্ত, যুদ্ধাহত এবং শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে উল্লিখিত এই হার ও শর্তে সম্মানি ভাতা ও অন্যান্য উৎসব ভাতাদি প্রদান করা হবে।











