কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়ার গুরুতর অভিযোগের মুখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাফে মোহাম্মদ ছড়াকে বদলি করা হয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর পর প্রশাসনের এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ নিয়োগ শাখা থেকে গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। তবে সরকারি এই প্রজ্ঞাপনে তার বদলির সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়নি।
ঘটনার সূত্রপাত হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর মাধ্যমে। ওই ভিডিওতে অভিযোগ করা হয় যে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরা এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে রাফে মোহাম্মদ ছড়া আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়ার ঘটনায় সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি ওঠে।
তবে এসব অভিযোগের কথা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন ইউএনও রাফে মোহাম্মদ ছড়া। স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, ওই নির্দিষ্ট দিনে তিনি দিনের বেলা নয়, বরং রাতে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং তার দায়িত্ব পালনকালে কোনো ধরনের গুলির ঘটনা ঘটেনি। তিনি আরও দাবি করেন, ওই এলাকার অবৈধ বালু ব্যবসার সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত একটি প্রভাবশালী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে এবং তাকে প্রশাসনিকভাবে সরিয়ে দেওয়ার জন্য এই মিথ্যা অভিযোগ সামনে আনা হয়েছে।











