সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন লন্ডনে চিকিৎসা নিতে গিয়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার (২৬ জুলাই) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সামনে তিনি এই দাবি জানান।

সম্প্রতি কিছু সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল যে, লন্ডনে অবস্থানকালীন সময়ে মো. সাহাবুদ্দিন এবং পলাতক শেখ হাসিনার মধ্যে ফোনে আলাপচারিতা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি বিষয়টি সংবাদপত্রে দেখেছেন, তবে সরকারের কাছে এ বিষয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য বা প্রমাণ নেই। বর্তমান ইন্টারনেটের যুগে যোগাযোগ করতে হলে কাউকে বিশেষ করে লন্ডনে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না; এখান থেকেই বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে কথা বলা সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন। কোনো তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদমাধ্যম এই খবরটি প্রকাশ করেছে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জিজ্ঞাসা করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলো সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে আসছিল। এ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিরোধীপক্ষ কেন রাষ্ট্রপতির গ্রেপ্তার চান, তা তাদের কাছেই জিজ্ঞেস করা উচিত।’ তিনি আরও যোগ করেন, বর্তমান সময়ে যারা রাষ্ট্রপতির সমালোচনা করছেন বা তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন, সেই অধিকার তাদের রয়েছে। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী এই সময়ে রাজনৈতিকভাবে মানুষের কথা বলার ও প্রতিবাদ করার পূর্ণ স্বাধীনতা থাকবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনকালীন ভূমিকা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, স্বৈরাচারের শেষ পর্যায় থেকে শুরু করে অন্তর্বর্তী সরকারের পুরো সময়কাল এবং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তিনি বিধিবিধান ও সংবিধান অনুযায়ী যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই সময়ে সরকার তাঁর পূর্ণ সহযোগিতা পেয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি একটি বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত (প্রিভিলেজড) পদ, যার ফলে তাঁর আইনি দায়মুক্তি বা ইমিউনিটি রয়েছে। ফলে ফৌজদারি অপরাধ বা অন্য কোনো বিষয়ে সরাসরি আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা সম্ভব নয়। তবে এর বাইরে কেউ যদি কোনো মতামত বা বক্তব্য প্রদান করেন, তবে তা তাঁদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং সরকার তা আমলে নেওয়ার মতো কিছু মনে করে না।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী জানান, সেই সময়কার অভিযোগগুলো সেই সময়ের আইন অনুযায়ী পরিচালিত হবে। সবশেষে মো. সাহাবুদ্দিনের অবসর পরবর্তী সুযোগ-সুবিধা প্রসঙ্গে তিনি জানান, সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি আইনানুগ যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা পাবেন। তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) এবং প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টসহ (পিজিআর) অন্যান্য নিরাপত্তা সুবিধা আগামী ছয় মাসের জন্য প্রদান করা হবে। এছাড়া পুলিশসহ প্রয়োজনীয় সকল নিরাপত্তা ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।