চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও এলাকায় সড়কের ওপর অবৈধভাবে ভাসমান রিকশাভ্যান বসানো নিয়ে বিরোধের জেরে এক যুবদল নেতার মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে চান্দগাঁও থানার অন্তর্গত ওমর আলী মাতব্বর বাড়ি এলাকায় এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম ফজলুল আমিন। তিনি চট্টগ্রাম নগরীর পূর্ব ষোলশহর ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম নগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহেদ।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নিহতের পরিবার চান্দগাঁও থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। মামলায় স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ শাহজাহান, তার ছেলে সিফাত এবং আরও ৫ থেকে ৭ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শাহজাহান নিজেকে ওই এলাকার বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন এবং ওমর আলী মাতব্বর বাড়ি এলাকায় সড়ক দখল করে হকারদের রিকশাভ্যান বসানোর ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ রাখতেন। নিহত ফজলুল আমিন দীর্ঘ সময় ধরে এই অবৈধ দোকানপাট বসানোর বিরোধিতা করে আসছিলেন, যার ফলে শাহজাহানের সাথে তার চরম শত্রুতা তৈরি হয়।
তবে এই ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা নিয়ে ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন যুবদল নেতা মোহাম্মদ শাহেদ। তিনি জানান, বিষয়টি সম্পূর্ণ স্থানীয় বিরোধের ফল, রাজনৈতিক কোনো সংঘাত নয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নিহত ফজলুল আমিন আগে থেকেই হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন এবং ঘটনার সময় সেখানে কিছুটা ধাক্কাধাক্কি হয়েছিল বলে তিনি শুনেছেন।
চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, স্থানীয় বিরোধের কারণে শাহজাহান ও ফজলুল আমিনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। রাতে দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে যে, তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে শাহজাহানের দেওয়া বুকের একটি ঘুষির আঘাতে ফজলুল আমিন মারা যান। পুলিশ বর্তমানে আসামিদের গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে।




















