মাফিকুল ইসলাম

কৃষকদের কাছে সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার ও বীজ পৌঁছে দিতে দিনাজপুরে নজরদারি জোরদারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সার মজুত, সরবরাহ ও বিক্রয় কার্যক্রম নিয়মিত মনিটরিংয়ের পাশাপাশি অনিয়ম, কালোবাজারি কিংবা কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষ ‘কাঞ্চন-১’-এ জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে দিনাজপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কৃষকদের জিম্মি করে কেউ সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে পারবে না। সরকারি পর্যায়ে পর্যাপ্ত সার ও বীজ মজুত রয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ভুল তথ্য কিংবা গুজব ছড়িয়ে বাজারে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, কৃষি মৌসুমে কৃষকরা যাতে সময়মতো প্রয়োজনীয় সার পান, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থাকতে হবে। ডিলারদেরও বরাদ্দ পাওয়া সার যথাসময়ে গুদাম থেকে উত্তোলন করে নির্ধারিত নিয়মে কৃষকদের কাছে বিক্রি করতে হবে।

সভায় জেলার সার ও বীজের মজুত পরিস্থিতি, সরবরাহ ব্যবস্থা, ডিলারদের কার্যক্রম এবং খুচরা পর্যায়ে কৃষকদের কাছে সার পৌঁছানোর বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি বাজারে সার বিক্রির ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত মূল্য অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

কালোবাজারি ও অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি বন্ধে কৃষি বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বাজার তদারকি বাড়ানোর কথাও বলা হয়। অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন দিনাজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলাল ও জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম।

এ ছাড়া অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নূর-ই-আলম সিদ্দিকী, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আফজাল হোসেন, জেলা বিএনপির সহসভাপতি আক্তারুজ্জামান জুয়েলসহ জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, কৃষকের উৎপাদন ব্যাহত না করতে সার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানোই মনিটরিং কার্যক্রমের অন্যতম লক্ষ্য।