জীবনের গল্পটা যেন রূপালি পর্দার এক নাটকীয় চিত্রনাট্য। একসময় বেঙ্গালুরুর ব্যস্ত রাস্তায় বাসের টিকিট কেটে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দিতেন যিনি, আজ তিনি কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ের রাজপুত্র, ভারতীয় চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি ‘থালাইভা’ রজনীকান্ত। দীর্ঘ প্রায় পাঁচ দশকের বর্ণিল অভিনয় জীবনের নানা চড়াই-উতরাই, কঠোর সংগ্রাম এবং সাফল্যের অজানা স্মৃতিগুলো এবার বইয়ের পাতায় বন্দি হতে চলেছে। জানা গেছে, রজনীকান্ত নিজেই লিখছেন তার জীবনের এক বিস্তারিত আত্মজীবনী।

এই আসন্ন বইটিতে তার শৈশবের দিনগুলো, পারিবারিক জীবন, বাস কন্ডাক্টর হিসেবে কর্মজীবনের কঠিন অভিজ্ঞতা এবং চলচ্চিত্রে প্রবেশের সেই রোমাঞ্চকর মুহূর্তগুলো স্থান পাবে। তারকাখ্যাতির পেছনে লুকিয়ে থাকা অনেক না-বলা গল্প এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা পাঠকদের জানাবেন তিনি। রজনীকান্তের কন্যা সৌন্দর্যা নিশ্চিত করেছেন যে, বইটির কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। সম্প্রতি উটির মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে অবকাশযাপনের সময়ও অভিনেতা তার লেখালেখিতে মগ্ন ছিলেন। এই আত্মজীবনীটি হবে তার জীবনের এক অনন্য দলিল, যা আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

এদিকে, এই আত্মজীবনী অবলম্বনে একটি জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্র বা বায়োপিক নির্মাণের সম্ভাবনা নিয়ে চলচ্চিত্র মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে। যদিও এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি এবং প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বা পরিচালকের নাম চূড়ান্ত হয়নি। তামিল, তেলুগু, হিন্দি ও কন্নড় ভাষার চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের জন্য রজনীকান্ত ভারতের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননাগুলোর মধ্যে পদ্মভূষণ, পদ্মবিভূষণ এবং দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। তার জীবনের এই অজানা অধ্যায়গুলো পাঠকদের সামনে আসার খবরে ভক্তদের মধ্যে ইতোমধ্যেই প্রবল উদ্দীপনা ও আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।