জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা মৌসুমী দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। জানা গেছে, অসুস্থ মায়ের সেবা এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে সময় কাটানোই বর্তমানে তার প্রধান অগ্রাধিকার। তবে প্রবাসে থেকেও তিনি পুরোপুরি অভিনয় থেকে দূরে থাকেননি; সময় সুযোগ মিলিয়ে টুকটাক শুটিংয়ে অংশ নিচ্ছেন এই অভিনেত্রী। অন্যদিকে, তার স্বামী চিত্রনায়ক ওমর সানী বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। প্রবাস জীবনে পরিবারকে সময় দেওয়ার পাশাপাশি মৌসুমীর নতুন সিনেমার খবর সামনে আসায় চলচ্চিত্র অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে চিত্রায়িত তার ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ প্রজেক্টটি নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল, যার রেশ এখনো কাটেনি।

পেছন ফিরে তাকালে দেখা যায়, নির্মাতা হাসান জাহাঙ্গীরের সেই বিতর্কিত ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ প্রজেক্টটি নিয়ে দর্শকদের মাঝে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। মূলত এটি একটি এক ঘণ্টার নাটক বা ওয়েব কনটেন্ট হিসেবে নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে নির্মাতার এক অদ্ভুত ও বিতর্কিত সিদ্ধান্তে কনটেন্টটিকে টেনে বড় করে পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা হিসেবে সেন্সর ছাড়পত্র নেওয়া হয়। এর ফলে সিনেমাটির মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দর্শকরা একে ‘নিম্নমানের’ ও ‘অখাদ্য’ কনটেন্ট হিসেবে অভিহিত করেন। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ধরে মানসম্মত বা ব্যবসায়িক সফল কোনো কাজ না থাকায়, প্রিয় নায়িকাকে এমন দুর্বল কনটেন্টে দেখে ভক্তরা চরম হতাশ হয়েছিলেন এবং মৌসুমীর কাজের রুচি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অনেকে।

এই পুরো বিষয়টি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন ওমর সানী ও মৌসুমী নিজে। ওমর সানী একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে এই প্রজেক্টটিকে সিনেমা হিসেবে মানতে অস্বীকার করেন এবং এর মুক্তি বন্ধ করার জোরালো আহ্বান জানান। অন্যদিকে মৌসুমীর অভিযোগ ছিল, তার অজান্তেই কাজটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং তাকে অনেকটা ‘কাটপিস’-এর মতো ব্যবহার করা হয়েছে, যা একজন পেশাদার শিল্পীর ক্ষেত্রে চরম অনৈতিক।

এই বিতর্কের মাঝেই এবার জানা গেল মৌসুমীর নতুন প্রজেক্ট ‘আ বিউটিফুল লাই’-এর খবর। নির্মাতা নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামুল যুক্তরাষ্ট্রে বসেই এই কাজটির গল্প রচনা ও নির্দেশনার দায়িত্ব পালন করছেন। তবে ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’-এর সাথে এই নতুন কাজের একটি বড় ধরনের মিল লক্ষ্য করা গেছে, যা নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে। জানা গেছে, প্রাথমিক পর্যায়ে ‘আ বিউটিফুল লাই’ প্রজেক্টটিও একটি টেলিফিল্ম হিসেবে নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও, পরবর্তীতে সেটিকে একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা বানানোর কথা ভাবা হচ্ছে এবং সেই অনুযায়ী চিত্রনাট্য বড় করা হচ্ছে।

ছোট পরিসরের কনটেন্টকে টেনে বড় সিনেমা বানানোর এই একই কৌশল এর আগে ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’-এর ক্ষেত্রে চরম বুমেরাং হয়েছিল। ফলে নতুন প্রজেক্টটিও একই পথে হাঁটছে কি না, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে। তবে ‘আ বিউটিফুল লাই’ সব মিলিয়ে কেমন হবে, তা নির্ভর করছে এর ট্রেলার প্রকাশ কিংবা সিনেমাটি মুক্তির পর দর্শকদের প্রতিক্রিয়ার ওপর। নতুন সিনেমাটি নিয়ে সংবাদমাধ্যমে মৌসুমী জানিয়েছেন, এটি মূলত একটি থ্রিলারধর্মী রোড ট্রিপের গল্প। গল্পের মূল কাহিনী একটি মিথ্যার ওপর ভিত্তি করে এগোবে। শুরুতে টেলিফিল্ম ভাবা হলেও শেষ পর্যন্ত এটি পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা হতে যাচ্ছে এবং দর্শকেরা এখানে একটি উপভোগ্য গল্প পাবেন বলে তিনি আশাবাদী।