রাজধানীর গুলশান থানায় দায়ের করা একটি প্রতারণা মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) সাজার বিরুদ্ধে আসামির করা আপিলের শর্তে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করেন।

এর আগে গত ২০ মে এই মামলায় বিদিশা সিদ্দিককে দুই বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলম। সাজার পাশাপাশি আদালত তাকে দশ হাজার টাকা জরিমানা করার আদেশ দেন। রায়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

আদালতের সাজা পরোয়ানার ভিত্তিতে গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটার দিকে গুলশান-২ এলাকার এ‍্যারাবিকা রেস্টুরেন্ট থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতের সামনে হাজির করা হয়।

২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে দায়ের করা এই মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, মামলার বাদী মোশাররফ হোসেন মিরপুর-১০ এলাকায় স্যানিটারি পণ্যের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। ২০০১ সালে বারিধারা এলাকার একটি ফ্ল্যাট কেনার উদ্দেশ্যে তিনি বিদিশা সিদ্দিকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরবর্তীতে বারিধারা এলাকার প্রেসিডেন্ট পার্কে অবস্থিত একটি ফ্ল্যাট বিক্রির বিষয়ে তাদের মধ্যে ৮০ লাখ টাকার একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০০১ সালের ১০ জুলাই বিদিশা সিদ্দিক বাদী মোশাররফ হোসেনকে বনানীতে অবস্থিত তার রজনীগন্ধা অফিসে তলব করেন। সেখানে তিনি তার মনোনীত ব্যক্তি এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার একটি পে-অর্ডার দেওয়ার কথা বলেন। বাদী স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখার মাধ্যমে ওই বিপুল পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করেন। এরপর উভয়ের মধ্যে একটি বায়নানামা সম্পাদিত হয়।

চুক্তির শর্তানুসারে, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্রয়োজনীয় অনুমোদন গ্রহণের পর বাকি টাকা পরিশোধ করা হলে ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করে ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে বাদীকে ফ্ল্যাটটি বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। তবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও বাদীকে ফ্ল্যাটটি বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

মামলায় আরও বলা হয়, ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য বারবার চাপ দেওয়া হলে বিদিশা সিদ্দিক টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি বাদীকে ৭২ লাখ টাকার একটি চেক প্রদান করা হয়। তবে নির্ধারিত সময়ে ওই চেকটি ব্যাংকে জমা দিলে হিসাবে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় তা ডিজঅনার হয়ে যায়।

বাদীর অভিযোগ, এরপর বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করে তাকে টাকা কিংবা ফ্ল্যাট—কোনোটিই বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। উল্টো টাকা ফেরত বা ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি জানালে সন্ত্রাসী দিয়ে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। মামলায় আরও দাবি করা হয়, বিদিশা সিদ্দিক বাদীকে জানিয়েছিলেন যে, সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কাছ থেকে টাকা আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাকে অপেক্ষা করতে হবে।