মোঃ ইমরান আকন্দ

জামালপুরে চাচা-ভাতিজা হত্যা মামলায় সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া একই মামলায় অন্য সাত আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগষ্ট) দুপুরে এ রায় ঘোষণা করা হয়।

জামালপুর জেলা জজ আদালতের অতিরিক্ত জেলা যুগ্ম জজ নেজাম উদ্দীন এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আসামিরা হলেন,

মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে শাখাওয়াত(২৩), তাইজলের ছেলে সোহেল(২১), আছর শেখের ছেলে আলামিন(২১), ভোলার ছেলে সাদ্দাম(২১), কামালের ছেলে উজ্জল(২১),সোজার ছেলে অন্তর(২১) এবং শহিদুলের ছেলে ফয়জুর(২৩)।

যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা হলেন,

মৃত গিয়াসউদ্দিনের ছেলে চান মিয়া(৪১), আছর শেখের ছেলে জিয়ার(৩৬), ভোলার ছেলে শাহ আলম(৩৬), রফিজলের ছেলে কাউসার(২০), তারা মিয়ার ছেলে রিফাত(২২), আব্বাস আলীর ছেলে সুমন(২২) এবং মৃত নাটু শেখের ছেলে মোস্তফা(৪০)।

আসামিদের সবার বাড়ি উপজেলার গজারিয়া গ্রামে।

মামলার বাদি জাহাঙ্গীর আলম একই গ্রামের আ: ছালাম দফাদারের ছেলে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে,

২০১৬ সালের ১৬ মে জামালপুরের মাদারগঞ্জে চাচা মহর আলী (১৯) এবং ভাতিজা স্বপন মিয়াকে (১৬) ডেকে নেয় আসামি সাখাওয়াত হোসেন (২২) ও সোহেল (২৩)।

১৯ মে পাশের গ্রামে পাট খেত থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হলে ওইদিনই মাদারগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন মহর আলীর বড় ভাই, স্বপন মিয়ার বাবা জাহাঙ্গীর আলম। মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, মহর এবং স্বপন ঘর থেকে বের হলে সাখাওয়াত এবং সোহেল ছাড়াও লেবু, বাবু, সাভার এবং আক্তারসহ আরও ১৫-২০ জন তাদের পিছু নেয়।

মামলায় ১৬ জনকে আসামি করা হলেও পুলিশ চুড়ান্ত অভিযোগপত্রে ১৪ জনকে দায়ি করে ২০১৭ সালের ১৮ এপ্রিল চুড়ান্ত অভিযোগ পত্র জমা দেয়।

দীর্ঘ ১০ বছরের বেশি সময় ধরে এবং ৬০ জন স্বাক্ষীর সাক্ষ্যে মামলার কার্যক্রম শেষ করে আদালত।

রায়ে জোড়া হত্যার ঘটনায় ৭ জনকে মৃত্যুদন্ডের আদেশ দেয় আদালত। অন্য ৭ জনকে যাবজ্জীবন দন্ড দেয়া হয়।

মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আসামিদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার এবং যাবজ্জীবন দন্ডপ্রাপ্তদের ২০ হাজার টাকা করে জরিমানার আদেশ দেয় আদালত।

রায় ঘোষণার সময় ১৪ আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী এপিপি দিদারুল ইসলাম দিদার জানান, চাচা ভাতিজা জোড়া খুনের মামলার রায়ে ৭ জনের মৃত্যুদন্ড এবং ৭ জনের যাবজ্জীবন দন্ডের আদেশ দিয়েছেন বিজ্ঞ বিচারক। রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট বলে জানিয়েছেন তিনি।

মামলার বাদি জাহাঙ্গীর আলম রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, এ রায় দ্রুত কার্যকর করা হোক।