লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা সীমান্তে বাংলাদেশি ভূখণ্ডে অবৈধ অনুপ্রবেশ করে এক যুবককে মারধর ও অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর বিরুদ্ধে। স্থানীয় গ্রামবাসীদের তীব্র প্রতিরোধ ও ধাওয়ার মুখে বিএসএফ সদস্যরা নিজেদের দুটি শর্টগান ও একটি ওয়াকিটকি ফেলে রেখে দ্রুত নিজ সীমান্তে পালিয়ে যান। বুধবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে হাতীবান্ধা উপজেলার বনচৌকী সীমান্তের আমঝোল গ্রামে এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় আমঝোল গ্রামের বাসিন্দা দুলাল মিয়ার সাথে তার স্ত্রী ও আরও কয়েকজন কৃষক নিজ জমিতে কাজ করছিলেন। ওই সময়ে তাদের বাড়িতে ডাকতে যান দুলাল মিয়ার ছেলে লিটন মিয়া। হঠাৎ একদল বিএসএফ সদস্য আন্তর্জাতিক সীমানা অতিক্রম করে অবৈধভাবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন এবং কৃষকদের লক্ষ্য করে তাড়া করেন। লিটন মিয়া বিএসএফ জওয়ানদের বাংলাদেশি ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশের কথা মনে করিয়ে দিলে তারা চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে বিএসএফ জওয়ানরা লাঠি দিয়ে লিটনকে বেধড়ক মারধর শুরু করেন এবং তাকে জোরপূর্বক ভারতের অভ্যন্তরে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালান।

দূর থেকে এই দৃশ্য দেখে আশপাশের সীমান্তবাসী ও কৃষকরা তাৎক্ষণিকভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিএসএফ জওয়ানদের ধাওয়া করেন। শত শত গ্রামবাসীর প্রবল চাপের মুখে বিএসএফ সদস্যরা লিটনকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। তাড়াহুড়ো করে পালিয়ে যাওয়ার সময় তারা নিজেদের সঙ্গে থাকা দুটি শর্টগান ও একটি ওয়াকিটকি ঘটনাস্থলেই ফেলে রেখে দ্রুত সীমান্ত অতিক্রম করে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও ওয়াকিটকি বনচৌকী বিজিবি ক্যাম্পে জমা দেন।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ওই রাতে সীমান্ত এলাকায় বিজিবি ও বিএসএফ-এর মধ্যে ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে একটি উচ্চপর্যায়ের পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত বৈঠকে বিজিবি সীমান্ত লঙ্ঘনের এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানায় এবং উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও ওয়াকিটকি বিএসএফ সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।