পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, দেশে কোনো মাজার, পীরের তরিকা কিংবা ধর্মীয় উপাসনালয় ভাঙচুর করতে দেওয়া হবে না। মাজার ধ্বংস করার চেষ্টা হলে আমরা আর ঘরে বসে থাকব না। বুধবার (২৬ আগস্ট) পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ পৌর সদরের বিজয় চত্বরে আহলে সুন্নত ওয়াল জামা'য়াতের উদ্যোগে আয়োজিত ‘জশনে জুলুসে ঈদে মিলাদুন্নবী’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলে দেশের প্রায় ১২৭টি মাজার ধ্বংস করার চেষ্টা চালানো হয়েছিল। তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে উল্লেখ করেন যে, একজন মুসলমান হয়ে আরেকজন মুসলমান মাজারের খাদেমকে পুড়িয়ে হত্যার মতো নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ভবিষ্যতে এই ধরনের কোনো অরাজকতা বা ধর্মীয় স্থান ধ্বংসের চেষ্টা হলে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না এবং এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।

হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মহানবী (সা.) আমাদের সঠিক পথ দেখানোর জন্যই পৃথিবীতে এসেছিলেন। আমরা ধর্মের নামে কোনো বাড়াবাড়ি করতে চাই না, বরং নবীর প্রদর্শিত তরিকা অনুসরণ করে ঐক্যবদ্ধ থাকতে চাই। তিনি আরও বলেন, মহানবীর ১৪ বছরের নবুয়তের শিক্ষা ও নীতি-আদর্শ থেকে আমাদের জীবন গড়ার প্রেরণা নিতে হবে। মদিনায় ব্যবসায়ীদের সম্পদ চুরি হলে মহানবী যেভাবে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং সে সময় ‘হিলফুল ফুজুল’ গঠনের যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়েছিল, তা বর্তমান সময়ের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।

ধর্মীয় আলোচনার পাশাপাশি স্থানীয় উন্নয়ন ও জনকল্যাণ বিষয়ে কথা বলেন ফরহাদ হোসেন আজাদ। তিনি জানান, যেসব এলাকায় সারের ডিলার নেই, সেখানে দ্রুত নতুন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে যাতে কৃষকরা ন্যায্য মূল্যে সার পেতে পারেন এবং কেউ যেন বেশি দামে সার কিনতে বাধ্য না হন। এছাড়া বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে সোলার প্রজেক্ট বাস্তবায়নের কথা জানান তিনি। একইসাথে বয়স্ক ভাতার কার্ড এবং কৃষক কার্ডসহ নির্বাচনী সব প্রতিশ্রুতি যথাযথভাবে পূরণ করার অঙ্গীকার করেন সরকার। অনুষ্ঠানে আহলে সুন্নত ওয়াল জামা'য়াতের দেবীগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি হামিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন ওই শাখার উপদেষ্টা মন্ডলির প্রধান গোলাম মাহবুব জিহাদি।