মৌলভীবাজারে প্রতিপক্ষকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে নিজের সাড়ে তিন বছরের শিশুকন্যাকে নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে বাবার মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি দণ্ডিত আসামিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। সোমবার দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক মো. আনোয়ারুল হক এই রায় ঘোষণা করেন।
মামলার বিস্তারিত বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের পূর্ব ভানুবিল গ্রামে এই হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। জানা গেছে, আসামি শরীফ আলীর সঙ্গে তার চাচাতো ভাইদের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা সংক্রান্ত তীব্র বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের চরম পর্যায়ে প্রতিপক্ষকে আইনি ঝামেলায় জড়ানো এবং তাদের ঘায়েল করার এক ঘৃণ্য পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শরীফ আলী নিজ বসতঘরে গভীর ঘুমে মগ্ন থাকা নিজের সাড়ে তিন বছরের কোমলমতি কন্যাকে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেন।
হত্যাকাণ্ডের পর নিজের অপরাধ আড়াল করতে এবং এই নৃশংসতার দায়ভার সালেক মিয়া নামে এক ব্যক্তির ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন শরীফ। তবে ঘটনার পর তার স্ত্রী নেকজান বিবি বাদী হয়ে মামলা দায়ের করলে তদন্ত শুরু হয়। পরবর্তীতে বিচার প্রক্রিয়ার এক পর্যায়ে আসামি শরীফ আলী আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। এই স্বীকারোক্তির ভিত্তিতেই আদালত তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন।
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট তোফায়েল আহমেদ রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আদালতের পর্যবেক্ষণে অত্যন্ত মর্মস্পর্শী কথা বলা হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, একটি শিশুকন্যা বাবার কাছে রাজকন্যার মতো প্রিয় ও আদরের। কিন্তু জাগতিক লোভ এবং জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য নিজের কলিজার টুকরো সন্তানকেই নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করেছেন আসামি।




















