কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ছড়িয়ে পড়া গুজব, অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা মোকাবিলায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এই বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। বুধবার জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের ২১তম দিনে সংরক্ষিত মহিলা আসন-২৯-এর সংসদ সদস্য ফাহিমা নাসরিনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান।

তথ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমান ডিজিটাল যুগে প্রযুক্তির অপব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে লড়াই করতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) তত্ত্বাবধানে ‘বাংলাফ্যাক্ট’ প্ল্যাটফর্মটি অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। অপতথ্য শনাক্তকরণ এবং গুজব প্রতিরোধে এই প্ল্যাটফর্মটি একটি ঢাল হিসেবে কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরও বিস্তারিত জানান, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে পরিচালিত ১৩৭টি ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, পেজ ও গ্রুপ শনাক্ত করা হয়েছে। এছাড়া সংবাদমাধ্যমের আদলে পরিচালিত ১৬টি অপতথ্যভিত্তিক ওয়েবসাইট, ৩০০টির বেশি বিভ্রান্তিকর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট এবং ১০০টি এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে, যা জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছিল।

‘বাংলাফ্যাক্ট’-এর কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, এই প্ল্যাটফর্মটি এ পর্যন্ত মোট ৮৬০টি ফ্যাক্টচেক, বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদন, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন এবং ভিডিও ও রিল প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ৩০৬টি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে তিন থেকে পাঁচটি দাবির সত্যতা যাচাই করে নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হচ্ছে, যাতে সাধারণ মানুষ সঠিক তথ্যের সন্ধান পায় এবং বিভ্রান্তি থেকে মুক্ত থাকে।

সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশের ৬৪টি জেলাজুড়ে মোট ১৪১টি প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজনের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন চলছে। এসব প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ইতিমধ্যে ৬ হাজার ৭৭৪ জন সাংবাদিককে আধুনিক সাংবাদিকতার কলাকৌশল শেখানো হয়েছে। এর মধ্যে বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর ২০টি বিশেষ প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন ৭৩৯ জন সাংবাদিক।

বিশেষ করে ডিজিটাল সাংবাদিকতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ফ্যাক্টচেক বিষয়ক ১৪টি বিশেষ প্রশিক্ষণ এই কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত ছিল। জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, প্রতিটি কর্মশালায় গুজব মোকাবিলা, তথ্যের সত্যতা যাচাই (ফ্যাক্টচেকিং) এবং সাংবাদিকতায় এআই-এর সঠিক ব্যবহারের বিষয়ে বিস্তারিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য খুব শিগগিরই একটি বিশেষ ‘ফ্যাক্টচেক ম্যানুয়াল’ প্রকাশ করা হবে, যা সাংবাদিকদের সঠিক তথ্য যাচাইয়ে নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এআই ও ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহার প্রতিরোধে সরকারের এই প্রয়োজনীয় কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।