মরুভূমির দেশ সৌদি আরবে বর্তমান সরকারের উদার বাণিজ্যিক নীতি এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের ফলে বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। এই সুযোগকে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে প্রবাসে সাফল্যের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন বহু প্রবাসী বাংলাদেশি। জেদ্দার ‘হাই আল নাজলা’ এলাকায়, যা প্রবাসীদের কাছে ‘মিনি বাংলাদেশ’ হিসেবে পরিচিত, সেখানে এক সফল উদ্যোক্তার গল্প এখন অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সৌদি সরকারের অর্থনৈতিক রূপান্তরের এই সময়ে নিজেদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং কঠোর পরিশ্রমকে পুঁজি করে এক অনন্য ব্যবসায়িক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন দুই সাহসী প্রবাসী বাংলাদেশি—ইনভেন্টর ইকবাল এবং সোহেল।

হাই আল নাজলার প্রাণকেন্দ্রে প্রবাসী বাঙালি এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে দেশীয় মিঠা পানির মাছের স্বাদ এবং লোহিত সাগরের একদম তাজা সামুদ্রিক মাছের বৈচিত্র্য ছড়িয়ে দিতে তারা যৌথভাবে গড়ে তুলেছেন আধুনিক মাছের দোকান ‘ফ্রেশ ফিশ’। এই উদ্যোগের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে গিয়ে উদ্যোক্তারা জানান, জেদ্দার হাই আল নাজলা এলাকায় বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশির বসবাস। প্রবাসে থেকেও যেন তারা দেশের বাড়ির মতো তাজা মাছের স্বাদ পান, সেই লক্ষ্যেই এই আউটলেটটি খোলা হয়েছে। সৌদি সরকারের চমৎকার এবং সহায়ক ব্যবসায়িক পরিবেশের কারণেই আজ তারা এই ‘ফ্রেশ ফিশ’ আউটলেটটি অত্যন্ত সফলভাবে পরিচালনা করতে পারছেন।

হাই আল নাজলার এই প্রতিষ্ঠানটি কেবল মাছের স্বাদই ছড়াচ্ছে না, বরং প্রবাসে নতুন কর্মসংস্থানের এক বড় সুযোগ তৈরি করেছে। ‘ফ্রেশ ফিশ’-এ কাজ করে ভাগ্যবদল হয়েছে অনেক প্রবাসী বাংলাদেশির, যারা এখন সম্মানের সাথে জীবনযাপন করছেন। একই সাথে, এই ব্যবসার মাধ্যমে অর্জিত লভ্যাংশ বৈধ পথে দেশে পাঠানোর ফলে দিন দিন আরও শক্তিশালী হচ্ছে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ, যা দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

এখানকার নিয়মিত ক্রেতারা তাদের সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, “নাজলা এলাকায় এই দোকানটি হওয়াতে আমাদের অনেক উপকার হয়েছে। এখন একদম হাতের কাছেই দেশের বিল বা নদীর মাছের আসল স্বাদ পাচ্ছি। সবচেয়ে বড় কথা, আমাদের দেশের ভাইয়েরা এখানে উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করছেন, তা দেখে আমরা অত্যন্ত গর্বিত বোধ করি।”

সততা, নিষ্ঠা, কঠোর পরিশ্রম আর সঠিক সুযোগের মেলবন্ধনে ইকবাল ও সোহেল আজ সফলতার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছেন। তাদের এই ‘ফ্রেশ ফিশ’ উদ্যোগটি কেবল হাই আল নাজলাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পুরো জেদ্দায় প্রবাসীদের বড় স্বপ্ন দেখতে এবং আত্মনির্ভরশীল হতে উদ্বুদ্ধ করবে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট সকলের।