সৌদি আরবে এক ভয়াবহ ও মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় লক্ষ্মীপুরের দুই সহোদর প্রাণ হারিয়েছেন। বুধবার (১৬ জুলাই) দিবাগত রাতে রিয়াদ থেকে জেদ্দায় ফেরার পথে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহতরা হলেন ফয়েজ আহমেদ সজীব (২৯) এবং ফরহাদ হোসেন সুজন (২১)। তারা লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার গণিপুর গ্রামের খলিফার বাড়ির বাসিন্দা আব্দুল মালেকের বড় ও মেজো ছেলে। তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শোকাহত বাবা আব্দুল মালেক।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সজীব ও সুজন সৌদি আরবের জেদ্দায় ব্যবসা পরিচালনা করতেন। ব্যবসায়িক প্রয়োজনে মালামাল সংগ্রহের জন্য তারা সম্প্রতি রিয়াদে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে প্রাইভেটকারে জেদ্দায় ফেরার পথে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী গাড়ির সঙ্গে তাদের গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এই প্রচণ্ড সংঘর্ষে তাদের বহনকারী গাড়িটির সামনের অংশ সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তারা গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে তাদের মৃত্যু হয়।

দুই ছেলের আকস্মিক মৃত্যুর সংবাদ দেশে পৌঁছানোর পর মুহূর্তেই পরিবারে নেমে এসেছে হাহাকার ও গভীর শোকের মাতম। কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তাদের মা, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, সজীব ও সুজন ছিলেন অত্যন্ত শান্ত, ভদ্র ও পরিশ্রমী। প্রবাসে থেকে পরিবারের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা নিশ্চিত করতে এবং বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফোটাতে তারা দীর্ঘ সময় ধরে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছিলেন।

নিহতদের বাবা আব্দুল মালেক আর্তনাদ করে বলেন, ‘আমার দুই ছেলে একসঙ্গে চলে গেল। আমি সবার কাছে তাদের রুহের মাগফিরাতের জন্য দোয়া চাই। একই সাথে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিশেষ অনুরোধ জানাচ্ছি, যেন দ্রুত তাদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হয়।’ পরিবারের সদস্যরাও বাংলাদেশ দূতাবাস ও সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি আবেদন জানিয়েছেন, যাতে দ্রুত মরদেহ দেশে এনে নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের ব্যবস্থা করা হয়।

এই বিষয়ে চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন নিপা জানান, ‘ঘটনাটি আগে আমাদের জানা ছিল না। আমরা দ্রুত খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার ব্যবস্থা করব।’