ব্যবসায়ীর কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে গ্রেপ্তার মতিঝিল এলাকার তথাকথিত ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ তানিম রেজা বাপ্পি এবং তার সহযোগী রাকিবুল ইসলাম ভূঁইয়াকে সাত দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। শনিবার (১৮ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম শুনানির পর এই আদেশ প্রদান করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, এদিন দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মতিঝিল থানার উপপরিদর্শক মোমিনুর রহমান তাদের বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন যে, মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে আসামিদের সঠিক নাম ও ঠিকানা যাচাই করা অত্যন্ত প্রয়োজন। পাশাপাশি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত পলাতক অজ্ঞাতনামা গুলিবর্ষণকারীসহ অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্ত করা এবং তাদের সঠিক পরিচয় সংগ্রহ করা জরুরি। এছাড়া অপরাধের সঙ্গে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার এবং সামগ্রিক ঘটনার রহস্য উদঘাটনে আসামিদের দীর্ঘমেয়াদী জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে আদালতে জানানো হয়। শুনানি শেষে আদালত আসামিদের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার অভিযানটি ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। গত শুক্রবার সকালে হোটেল পূর্বাণী সংলগ্ন এলাকা থেকে তানিম রেজা বাপ্পিকে এবং দুপুরে উত্তর কমলাপুর এলাকা থেকে রাকিবুল ইসলাম ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওইদিন রাতেই দক্ষিণ কমলাপুরে অবস্থিত বাপ্পির ব্যক্তিগত অফিসে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকে একটি বিদেশি রিভলভার, দুটি বিদেশি পিস্তল, পাঁচ রাউন্ড রিভলভারের গুলি, দুই রাউন্ড পিস্তলের গুলি, দুটি ম্যাগাজিন, একটি ইলেকট্রিক শক গান এবং একটি চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত এসব অস্ত্র অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হতো বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ভুক্তভোগী ইসমাইল হোসেন পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তিনি মতিঝিল থানাধীন ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবের পাশে কোরবানির পশুর অস্থায়ী হাটের ইজারাদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গত ১৫ মে রাত সাড়ে ১১টার দিকে এজিবি কলোনিতে অবস্থানকালে তার ব্যবহৃত মোবাইলের হোয়াটসঅ্যাপে একটি কল আসে। ওই কলে অভিযুক্তরা ইসমাইল হোসেনের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং কোরবানির হাটে তাদের মনোনীত একজন ব্যক্তিকে অংশীদার হিসেবে রাখার দাবি জানায়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, অংশীদার রাখা এবং ১০ লাখ টাকা চাঁদা না দিলে তাকে গুলি করে মেরে ফেলার চরম হুমকি দেওয়া হয়। হুমকির চারদিন পর, ১৯ মে সকাল ১০টার দিকে ইসমাইল হোসেন যখন পশুর হাট সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সভায় উপস্থিত ছিলেন, তখন তার ভাগিনা হৃদয় মোবাইলের মাধ্যমে জানান যে, ভোরবেলা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ তার অফিসে গুলি চালিয়েছে। এই ধারাবাহিকতায় গত ২০ মে ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে মতিঝিল থানায় চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন।











