১১২ কোটি টাকার চেক ডিজঅনারের একটি মামলায় জামিন পেয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা এবং বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এক হাজার টাকার মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী মোহাদ্দেসুল আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ মামলার অন্যান্য আসামিরা ইতিপূর্বেই জামিন পেয়েছেন। মামলার নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংক অব বাংলাদেশের (এক্সিম ব্যাংক)-এর প্রিন্সিপাল অফিসার উজ্জ্বল মণ্ডল বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন। এই মামলায় মোট পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ঋণের অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ার পর বেক্সিমকো এলপিজি ইউনিট-১ লিমিটেডের পক্ষ থেকে ১১২ কোটি টাকার একটি চেক ইস্যু করা হয়। ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর চেকটি এক্সিম ব্যাংকের করপোরেট শাখায় জমা দেওয়া হলে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় তা ‘ইনসাফিসিয়েন্ট ফান্ড’ উল্লেখ করে ফেরত দেওয়া হয়। এরপর নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১৩৮ ও ১৪০ ধারা অনুযায়ী নিবন্ধিত ডাকযোগে ৩০ দিনের মধ্যে অর্থ পরিশোধের জন্য আইনি নোটিশ পাঠানো হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বকেয়া অর্থ পরিশোধ করা হয়নি বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার অন্যান্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন এসকর্প হোল্ডিংস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান, বেক্সিমকো এলপিজি ইউনিট-১ লিমিটেডের পরিচালক মাহফুজুর রহমান, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা ইমরান মণ্ডল, নির্বাহী পরিচালক মো. লুৎফর রহমান, এএফআর হোল্ডিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাশকুরা খানম, পরিচালক মো. সাইফুর রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু নাঈম মোহাম্মদ সালেহীন, পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান তানভীর এবং বেক্সিমকো হোল্ডিংস লিমিটেডের চেয়ারম্যানের ছেলে এ এস এফ রহমান।

উল্লেখ্য যে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট সালমান এফ রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। এই চেক ডিজঅনার মামলা ছাড়াও সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও দুর্নীতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আরও একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।