২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে গুরুতর আহত হয়ে পঙ্গু হওয়া জুলাই যোদ্ধা মোহাম্মদ শাহিন মালু দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও উন্নয়ন নিয়ে তার জোরালো দাবি জানিয়েছেন। তিনি মনে করেন, দেশের সামগ্রিক উন্নতির জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সুযোগ দেওয়া অপরিহার্য। শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের শোক ও বিজয়ের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন-২০২৬’-এ আহত পরিবারের প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে শাহিন মালু আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “দেশের মানুষকে যদি সত্যিই ভালোবাসেন, তবে তারেক রহমানকে ১০ বছর সময় দিতে হবে। এ বিষয়ে কোনো কথা চলবে না।” তিনি বিএনপিকে পুনরায় নির্বাচিত করে তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান। তিনি যুক্তি দেখান যে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ পরিচালিত হলে প্রবাসীদের দেশে ফেরার পথ প্রশস্ত হবে। তিনি বলেন, “আমরা বর্তমানে কাজের সন্ধানে বিদেশের মাটিতে যেতে বাধ্য হই। কিন্তু তারেক রহমানকে ১০ বছর সময় দেওয়া হলে বিদেশ থেকে মানুষ পুনরায় আমাদের দেশে ফিরে এসে কাজ করবে।”

এই সম্মেলনে অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করে শাহিন মালু অভিযোগ করেন যে, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে বিএনপিপন্থি আহত ও নিহতদের প্রতি সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল বৈষম্যমূলক। নিজের দীর্ঘদিনের দলীয় আনুগত্য ও ব্যক্তিগত কষ্টের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “বিএনপিকে ভালোবাসতে গিয়ে আমি সব হারিয়েছি। দীর্ঘ ১৭ বছর চরম কষ্ট সহ্য করেছি, তবুও আমরা দলের প্রতি অবিচল আছি। আমাদের ভাগ্যে তেমন কিছু মেলেনি, কিন্তু হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং সার্জিস আলমদের মতো ব্যক্তিরা কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন।”

নিজের হাঁটার ক্রাচ দেখিয়ে তিনি অত্যন্ত করুণভাবে বলেন, “আমি এখনো এই ক্রাচের ওপর ভর করে বেঁচে আছি।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দেশকে ভালোবাসতে গিয়ে জিয়া পরিবার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারেক রহমানের দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রবাস জীবনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই দেশের মাটি ও মানুষকে ভালো রাখতে গিয়ে তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর দেশের মাটিতে আসতে পারেননি। আমি একটি কথাই বলব, এই দেশের যদি ভালো চান, তবে তারেক রহমানের দিকে তাকাতে হবে।”

এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এছাড়া অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি, আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতা এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।