সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থী প্রশিক্ষণের আগেই বিদ্যালয়ে যোগদানের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। আজ রোববার (২৬ জুলাই ২০২৬) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাঁরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এই জরুরি আহ্বান জানান।

বিজ্ঞপ্তিতে নির্বাচিত প্রার্থীরা তাঁদের চরম হতাশা ও অনিশ্চয়তার কথা তুলে ধরেছেন। দীর্ঘ সময় ধরে নিয়োগ প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ায় তাঁরা প্রচণ্ড মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। প্রার্থীরা জানান, শিক্ষকতা পেশায় আসার প্রবল আকাঙ্ক্ষায় এবং চূড়ান্ত তালিকায় নাম আসার পর অনেকেই তাঁদের পূর্বের চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। কিন্তু নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন না হওয়ায় তাঁরা এখন কোনো স্থায়ী কর্মসংস্থানে যুক্ত হতে পারছেন না। ফলে তাঁদের জীবিকা নির্বাহ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

প্রার্থীদের প্রধান দাবি হলো, পুলিশ ভেরিফিকেশন ও অন্যান্য যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরপরই দ্রুত নিয়োগপত্র প্রদান করে বিদ্যালয়ে যোগদানের সুযোগ দেওয়া হোক। একই সঙ্গে তাঁরা জানিয়েছেন, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নির্ধারিত সময়েই চালিয়ে নিতে তাঁদের কোনো আপত্তি নেই, তবে যোগদানের নিশ্চয়তা প্রয়োজন।

উল্লেখ্য যে, গত ৮ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছিল। সেই তালিকায় মোট ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চের মধ্যে তাঁদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা (ডোপ টেস্টসহ) এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত ও পেশাগত সনদ যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন করা হয়।

প্রার্থীদের অভিযোগ, নিয়ম অনুযায়ী এই ধাপগুলোর পর দ্রুত যোগদানের কথা থাকলেও প্রায় দুই মাস ধরে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আর কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। বর্তমানে নির্বাচিত প্রার্থীদের পুলিশ ভেরিফিকেশনের কাজ চলমান রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকার চায় নির্বাচিত প্রার্থীরা প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণকেন্দ্র (পিটিআই) থেকে সফলভাবে প্রশিক্ষণ শেষ করার পরেই তাঁদের চূড়ান্ত পদায়ন করতে। এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং প্রার্থীদের দাবির মধ্যেই এখন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।