বাংলাদেশ পুলিশে জনবল বাড়ানোর লক্ষ্যে এক বিশাল নিয়োগ প্রক্রিয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, নতুন করে ৪ হাজার নিরস্ত্র সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই), ৪০০ সার্জেন্ট এবং ১০ হাজার কনস্টেবল নিয়োগ দেওয়া হবে। সব মিলিয়ে পুলিশের সামগ্রিক জনবল বৃদ্ধিতে মোট ১৪ হাজার ৪০০টি নতুন পদ সৃজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্ব চলাকালীন রংপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমিনের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই তথ্য জানান।
সংসদে সালাহউদ্দিন আহমদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা করে বলেন, পুলিশের কার্যক্ষমতা ও জনবল বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই ৪ হাজার নিরস্ত্র এসআই, ৪০০ সার্জেন্ট ও ১০ হাজার কনস্টেবলের পদ সৃজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রথমে প্রশাসনিকভাবে এসব পদ সৃজন করা হবে এবং এরপর ধাপে ধাপে নিয়োগ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি বিশেষ করে রংপুর জেলাতেও পুলিশের জনবল উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, পুলিশের জনবল বৃদ্ধির এই প্রক্রিয়াটি বেশ আগে থেকেই পরিকল্পনাধীন ছিল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছিলেন যে, ১০ হাজার নতুন কনস্টেবল নিয়োগের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত ছাড়পত্র পাওয়ার পর নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে। একই সময়ে তিনি ১৮০টি শূন্য সার্জেন্ট পদে পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরুর কথাও জানিয়েছিলেন।
অন্যদিকে, ৪ হাজার নিরস্ত্র এসআই পদ সৃজনের বিষয়টি নিয়ে চলতি বছরের মার্চ মাসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। মন্ত্রণালয়ের জারি করা নোটিশে পুলিশ অধিদপ্তরের সাংগঠনিক কাঠামোভুক্ত বিভিন্ন ইউনিটে গ্রেড-১০-এর ৪ হাজার নিরস্ত্র এসআই পদ সৃজনের প্রস্তাবের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
জনবল বৃদ্ধির পাশাপাশি পুলিশের পরিকাঠামো ও সরঞ্জাম আধুনিকায়নের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে পুলিশের যানবাহন ও জলযানের ঘাটতি পূরণ করা হবে। উন্নত অর্গানোগ্রাম ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংবলিত যানবাহন ও জলযানগুলো রাজস্ব বাজেটের আওতায় কেনা হবে।
সরকারের এই সামগ্রিক উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং পুলিশি সেবার সক্ষমতা বহুগুণ বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার একটি বিশেষ দিক নিয়ে বাহিনীর ভেতরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ৪ হাজার এসআই সরাসরি নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্তের ফলে পুলিশের অধস্তন পর্যায়ের সদস্যদের মধ্যে পদোন্নতির সুযোগ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা নিয়ে বাহিনীর ভেতরে কিছুটা উদ্বেগের পরিবেশ বিরাজ করছে।




















