বরিশালে এক নৃসংশ ঘটনার পর এক ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানকে মারধর, অকথ্য নির্যাতন এবং জোরপূর্বক স্ট্যাম্প ও চেকে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয় এবং এরই প্রেক্ষিতে রবিবার তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন— নগরীর ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাটপট্টি রোড এলাকার মোস্তাফিজুর রহমান লিটু (৫২) এবং ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সিকদারপাড়া এলাকার আবুল কালাম আজাদ (৫৫)।
কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটি নিবিড়ভাবে পর্যালোচনার পর ভুক্তভোগীর দায়ের করা অভিযোগটিকে এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে মামলা রুজু করা হয়। এরপর দ্রুত অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে এই ঘটনায় জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৭ জুন সন্ধ্যায় নগরীর সদর রোডে অবস্থিত একটি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে ঢুকে হঠাৎ হামলা চালায় একদল ব্যক্তি। তারা প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল আজিজ হাওলাদারকে নির্মমভাবে মারধর করেন। অভিযোগ করা হয়েছে যে, নির্যাতনের এক পর্যায়ে তার অণ্ডকোষ চেপে ধরে অত্যন্ত অমানবিক উপায়ে তাকে বাধ্য করা হয় এবং কয়েকটি স্ট্যাম্প ও চেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এছাড়া অভিযুক্তরা তার কাছ থেকে ৭০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে বলে অভিযোগে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। পুরো ঘটনাটি প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে এবং পরবর্তীতে সেই ভিডিওটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ হাওলাদার জানান, ঘটনার পরপরই তিনি থানায় অভিযোগ জানিয়েছিলেন। তবে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতির কারণে তাৎক্ষণিকভাবে আইনি পদক্ষেপ নিতে পারেননি। পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে তিনি আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালতে ভিডিওটি উপস্থাপনের পর বিচারিক নির্দেশনায় মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
এদিকে ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে রবিবার বিকেল চারটায় মহানগর পুলিশ কমিশনার আশিক সাইদ নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তিনি জানান, মামলা রুজু হওয়ার মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যে দুই আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, গ্রেফতারকৃতরা কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত নন। মামলার অন্যান্য অভিযুক্তদের ধরতে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটুকে যুবদলের নেতা হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়ে প্রচার চালানো হলে জেলা ও মহানগর যুবদল এক পৃথক সংবাদ সম্মেলন করে। সেখানে তারা স্পষ্টভাবে জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি কখনোই সংগঠনের কোনো পর্যায়ের নেতা বা সদস্য ছিলেন না। এই দাবির সাথে একমত পোষণ করেছেন কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্নাও।
তবে গ্রেফতারকৃত মোস্তাফিজুর রহমান লিটুর দাবি ভিন্ন। তার ভাষ্যমতে, পাওনা টাকা আদায়ের বিষয় নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়েছিল এবং সেই অর্থ আদায়ের চেষ্টা থেকেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।











