মাফিকুল ইসলাম
শেখ বাদশার মুক্তির দাবিতে থানা ঘেরাও; কয়েকটি সড়কে যান চলাচল বন্ধ, শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন স্থগিত
দিনাজপুরে মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ বাদশাকে গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর মুক্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পরিবহন শ্রমিকেরা জেলা শহরের বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। একই সঙ্গে কোতোয়ালি থানার প্রধান ফটকের সামনে বাস আড়াআড়ি রেখে থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন তাঁরা।
শ্রমিকদের অবরোধের কারণে দিনাজপুর শহরের সঙ্গে বিভিন্ন রুটের বাস চলাচল ব্যাহত হয়। শহরের সরকারি কলেজ মোড়, কালীতলা, মহারাজা মোড়, ফুলবাড়ী বাসস্ট্যান্ড ও বালুয়াডাঙ্গা মোড়সহ কয়েকটি এলাকায় যানবাহন আটকে থাকার খবর পাওয়া যায়। এতে সাধারণ যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন।
কোতোয়ালি থানার সামনে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক অবস্থান নিয়ে শেখ বাদশার মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় পুলিশ সদস্যদেরও সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়।
দুপুরের দিকে থানার সামনে শ্রমিকদের দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়।
এদিকে শহরের কালীতলা মোড়সহ কয়েকটি এলাকায় যানবাহন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগও পাওয়া গেছে। তবে এসব ঘটনায় কারা জড়িত, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে দিনাজপুর শহরের মহারাজা বটতলী (রাজারহাট) এলাকা থেকে শেখ বাদশাকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পুলিশ বলছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার ঘটনায় করা একটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হওয়ায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আনোয়ার হোসেন বলেন, শেখ বাদশার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে এবং তিনি ওই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। মামলার কারণে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর মুক্তির দাবিতে শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধ করেছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে শেখ বাদশার অনুসারী শ্রমিকদের অভিযোগ, আসন্ন মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনে তাঁকে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হতে বাধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, বাদশা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এবং বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার মনোনয়নপত্র সংগ্রহের সময় নির্ধারিত ছিল।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা ফরহাদ হোসেন। তাঁর বক্তব্য, শেখ বাদশার বিরুদ্ধে মামলা থাকায় পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁকে ছাড়িয়ে নিতে কিছু শ্রমিক থানা ঘেরাও করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করেছেন।
শেখ বাদশার স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনও থানার সামনে অবস্থান নেন। তিনি দাবি করেন, তাঁর স্বামী বর্তমানে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত নন। গ্রেপ্তারের পর তাঁর বিরুদ্ধে মামলার বিষয়টি তাঁরা জানতে পারেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বুধবার রাতে থানায় গেলে বাদশাকে প্রতিপক্ষের লোকজন লাঞ্ছিত করেছেন।
শেখ বাদশা জেলা শ্রমিক লীগের সাবেক নেতা। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি শ্রমিক লীগের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের ত্রিবার্ষিক নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। ওই নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি।
নির্বাচন স্থগিত
শ্রমিক নেতা গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের ত্রিবার্ষিক নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সহকারী নির্বাচন কমিশনার গোলাম নবী (দুলাল) জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব নয়। তাই নির্বাচন পরিচালনা কমিটির বৈঠকে নির্বাচন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।















