প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান বিশ্বের ভূ-রাজনৈতিক ও কৌশলগত প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তার সংজ্ঞা এবং ধারণা অত্যন্ত দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। প্রচলিত নিরাপত্তা ঝুঁকির পাশাপাশি বর্তমান সময়ে সাইবার হামলা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং বিভিন্ন ধরনের হাইব্রিড নিরাপত্তা হুমকি নতুন ও জটিল চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর) সদস্যদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এসব আধুনিক ও বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর সক্ষমতা বৃদ্ধি, উন্নত গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ, কার্যকর কৌশল প্রণয়ন ও সার্বক্ষণিক প্রস্তুতির কোনো বিকল্প নেই।’
রবিবার (৫ জুলাই) ঢাকা সেনানিবাসে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে আয়োজিত পিজিআর-এর ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই পিজিআর-এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও গৌরবের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের এই গৌরবময় দিনে আমি গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী সকল শহিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনাদের। তাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই আমরা পেয়েছি এই স্বাধীন ভূখণ্ড।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি বিনম্র শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে, যাঁর হাত ধরে এই বাহিনীর বিকাশ ঘটেছিল এবং এই বাহিনী এক নতুন ও আধুনিক রূপ পেয়েছিল। একই সঙ্গে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকে, যিনি এই বাহিনীর সম্প্রসারণ এবং উৎকর্ষ সাধনে অনন্য ও অবিস্মরণীয় অবদান রেখেছেন।’
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বরণের সেই শোকাবহ স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের মুখে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শাহাদাত বরণ করেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় পিজিআর-এর পাঁচজন বীর সদস্যও নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। আজকের এই বিশেষ দিনে আমি সেইসব শহীদ বীর সদস্যসহ সকল সদস্যকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি, যাঁরা কর্তব্যের প্রয়োজনে এবং দেশের সেবায় নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন।’
পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে নিহত বীর যোদ্ধাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে তিনি তাঁদের সাহসিকতার প্রশংসা করেন।
পিজিআর সদস্যদের দায়িত্বের পরিধি, গুরুত্ব এবং সংবেদনশীলতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আপনাদের দায়িত্ব অত্যন্ত স্পর্শকাতর, গৌরবময় এবং চ্যালেঞ্জপূর্ণ। রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান এবং দেশি-বিদেশি অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তার সঙ্গে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক মর্যাদার বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও নিশ্ছিদ্র ও কার্যকর করতে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সাথে নিরবিচ্ছিন্ন সুসমন্বয় বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।’
প্রধানমন্ত্রী পিজিআর সদস্যদের অত্যন্ত সংবেদনশীল ও পেশাদার হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের সুরক্ষা ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি, সাধারণ জনগণ ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মধ্যে সংযোগে যেন কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটে, সে বিষয়ে আপনাদের বিশেষভাবে যত্নবান হতে হবে। নিরাপত্তার সাথে সৌজন্যের ভারসাম্য বজায় রাখা আপনাদের অন্যতম দায়িত্ব।’
সরকারের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য ও প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, সশস্ত্র বাহিনীকে একটি আধুনিক চতুর্মাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি বলেন, ‘দেশের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা প্রণয়ন, প্রতিরোধ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল নির্ধারণে আমরা এখন ‘‘সবার আগে বাংলাদেশ’’ নীতি গ্রহণ করেছি। এই দূরদর্শী উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি পিজিআর-এর কর্মসক্ষমতা ও পেশাগত দক্ষতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।’
বক্তব্যের পরিশেষে, সততা, নিষ্ঠা এবং সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অটুট রাখার জন্য পিজিআর সদস্যদের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি রেজিমেন্টের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি ও গৌরবময় ভবিষ্যৎ কামনা করেন এবং উপস্থিত সকলের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু প্রার্থনা করে তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।











