লাইফ সাপোর্টে থাকা নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশন (এনপিএ)-এর কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সদস্য ও বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক শীর্ষ নেতা মেঘমল্লার বসুর শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা অনেকটাই স্থিতিশীল বলে জানা গেছে। তার শ্বাসকষ্টের সমস্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে এবং চিকিৎসকরা কৃত্রিম অক্সিজেন সরবরাহের মাত্রা ধীরে ধীরে কমিয়ে স্বাভাবিক পর্যায়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। একইসঙ্গে তার সচেতনতার মাত্রা বা কনশাসনেস লেভেলও ক্রমশ বাড়ছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন এনপিএ-এর কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সদস্য সচিব সজীব তানভীর।
সজীব তানভীর আরও জানান, মেঘমল্লার বসুর রক্তচাপ, পালসসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক প্যারামিটারগুলো এখন স্থিতিশীল রয়েছে। চিকিৎসকদের নিবিড় ও সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে তার শারীরিক অবস্থার ক্রমাগত উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মেঘমল্লার বসুর উন্নত ও সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে সাত সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এই বোর্ডে বিভিন্ন বিভাগের প্রধানসহ চারজন অধ্যাপক ও তিনজন সহযোগী অধ্যাপক রয়েছেন। ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান নিজেই তার পুরো চিকিৎসা প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদারকি করছেন এবং সার্বক্ষণিক খোঁজ নিচ্ছেন।
গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন মেডিসিন বিভাগের প্রধান প্রফেসর ডা. মো. শফিকুল বারি, এমআইসিইউর প্রধান প্রফেসর ডা. সৈয়দ মোহাম্মদ মনোয়ার আলী, মেডিসিন বিভাগের প্রফেসর ডা. হাফিজুর রহমান এবং রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের প্রফেসর ডা. মো. আমিনুল ইসলাম। এছাড়া বোর্ডে আরও তিনজন সহযোগী অধ্যাপক রয়েছেন, যাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। মেঘমল্লার বসুর চিকিৎসার বিষয়ে ঢামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও সমন্বয় রক্ষার দায়িত্বে রয়েছেন এনপিএ-এর কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সদস্য সচিব সজীব তানভীর।
উল্লেখ্য, গত সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেট এলাকা থেকে মেঘমল্লার বসুকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে বিষক্রিয়ার তীব্র আশঙ্কা থাকায় চিকিৎসকরা দ্রুত তার পাকস্থলী পরিষ্কার বা স্টমাক ওয়াশ করার প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেন। এরপর মঙ্গলবার তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে বুধবার সন্ধ্যায় অবস্থার আরও অবনতি ঘটলে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।

















