মেহেরপুরের গাংনীতে মোবাইল ফোন দেখতে দেখতে পুকুরে পড়ে আরিশা খাতুন (২) নামে এক শিশুকন্যার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া ইউনিয়নের করমদি গ্রামে এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে। নিহত আরিশা ওই গ্রামের বাসিন্দা রাকিবুল ইসলামের মেয়ে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে আরিশা বাড়ির ভেতরে মোবাইল ফোন দেখতে দেখতে ভাত খাচ্ছিল। খাওয়া শেষ করার পর সে মোবাইল হাতে নিয়েই বাড়ির পাশের খোলা জায়গায় খেলতে বের হয়। একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যদের অগোচরেই সে বাড়ির পাশের একটি পুকুরের পানিতে পড়ে যায়। কিছুক্ষণ পর আরিশাকে কোথাও দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে অত্যন্ত তৎপরতার সাথে খুঁজতে শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের পুকুর থেকে তাকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত আরিশার ফুফু চুমকি খাতুন আক্ষেপ করে বলেন, আরিশা মোবাইল দেখতে দেখতে ভাত খাচ্ছিল। খাওয়া শেষ হওয়ার পর সে মোবাইল নিয়েই খেলতে যায় এবং এরপরই বাড়ির পাশের পুকুরে পড়ে যায়।
গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মাহবুবুর রহমান নয়ন জানান, হাসপাতালে নেওয়ার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। এদিকে, গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী জানান, পানিতে ডুবে শিশুর এই অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হবে। একইসঙ্গে, পুকুর ও অন্যান্য জলাশয়ের আশপাশে শিশুদের চলাফেরার সময় অভিভাবকদের আরও বেশি সতর্ক থাকার এবং শিশুদের সবসময় বড়দের নজরদারিতে রাখার বিষয়ে অত্যন্ত জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

















