বলিউডের জনপ্রিয় হরর সিনেমা ‘রাজ’-এর মতোই রহস্যময় হয়ে উঠেছিল অভিনেত্রী মালিনী শর্মার জীবন। ২০০২ সালে মুক্তি পাওয়া ওই সিনেমাটিতে খুব অল্প সময়ের উপস্থিতিতেই দর্শকদের মনে এক বিশেষ জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। বিশেষ করে ‘আপকে পেয়ার মে’ গানের দৃশ্যে তার মোহময় উপস্থিতি আজও অনেক ভক্তের স্মৃতিতে অমলিন। কিন্তু সাফল্যের শিখরে থাকা অবস্থাতেই হঠাৎ একদিন বলিউড থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ সরিয়ে নেন মালিনী। এরপর দীর্ঘ ২৩ বছর তাকে আর কোনো সিনেমার পর্দায় বা ক্যামেরার সামনে দেখা যায়নি।

দীর্ঘ এই নীরবতার পর এবার ফিরছেন মালিনী, তবে এবার কোনো কাল্পনিক চরিত্রের মোড়কে নয়, বরং নিজের বাস্তব জীবনযাপন তুলে ধরতে। বর্তমানে ভারতের মহারাষ্ট্রের সাহ্যাদ্রি পাহাড়ি এলাকায়, পুনে শহর থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা দূরে একটি সুন্দর ফার্মস্টে পরিচালনা করছেন তিনি। সেখানে নাগরিক জীবনের কোলাহল ছেড়ে প্রকৃতির সাথে মিতালি গড়েছেন মালিনী। নিজের হাতে সবজি চাষ থেকে শুরু করে খামারে উৎপাদিত টাটকা উপকরণ দিয়ে অতিথিদের জন্য সুস্বাদু খাবার তৈরি করেন তিনি।

বিভিন্ন ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ২০২০ সালের দিকে তিনি সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। পাশাপাশি ‘দ্য স্লো লোকাল’ নামক নিজের একটি উদ্যোগের মাধ্যমে খাবার, কারুশিল্প, বিভিন্ন কর্মশালা এবং প্রকৃতিনির্ভর জীবনযাপনের প্রসারে কাজ করছেন তিনি। নিজের ভিডিও ডায়েরি ‘দ্য স্লো লোকাল ডায়েরিস’-এর মাধ্যমে দর্শকদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে গিয়ে তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘যারা ভাবছেন আমি কোথায় হারিয়ে গিয়েছিলাম, তাদের বলছি—আমি বেঁচে আছি, আমি এখানেই আছি।’

তবে এবারের প্রত্যাবর্তন কোনো সিনেমার চিত্রনাট্য মেনে নয়। মেকআপের প্রলেপ, মুখস্থ সংলাপ কিংবা শুটিং সেটের কৃত্রিম আলোর পরিবর্তে এখন তার ক্যামেরায় ধরা পড়ছে খামারের সহজ-সরল জীবন, কঠোর পরিশ্রমের চাষাবাদ, দেশীয় রান্না এবং প্রকৃতির সাথে তার প্রতিদিনের নিবিড় সম্পর্ক। ঘরে তৈরি রুটি, গ্র্যানোলা, জ্যাম, কফি ও তেলের মতো বিভিন্ন প্রাকৃতিক পণ্য তৈরি ও বিপণন নিয়েও কাজ করেছেন তিনি। পরবর্তীতে সেই উদ্যোগের পরিধি বাড়িয়ে শহরের ব্যস্ততাকে চিরতরে বিদায় জানিয়ে সাহ্যাদ্রির পাহাড়ে গড়ে তুলেছেন নিজের স্বপ্নের ফার্মস্টে। খামারের একটি অংশে থাকা প্রাকৃতিক বনটিকেও তিনি অত্যন্ত যত্ন সহকারে অক্ষত রেখেছেন। তার ভাষায়, সেটি তাদের নিজেদের একটি ‘ছোট্ট বন’।

উল্লেখ্য যে, ‘রাজ’-এর পর তিনি সাথে সাথেই অভিনয় জগত পুরোপুরি ছেড়ে দেননি। অভিনয়ের পাশাপাশি পর্দার পেছনের কারিগরি কাজেও আগ্রহী হয়ে ওঠেন তিনি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে, পরবর্তী সময়ে তিনি আর্ট ডিরেকশনের সাথেও যুক্ত ছিলেন। তবে সময়ের সাথে সাথে ব্যক্তিগত জীবন, পরিবার এবং সন্তানদের প্রতি দায়িত্ব ও অগ্রাধিকার বদলে যায়। আর এভাবেই ধীরে ধীরে মূলধারার বিনোদনজগত থেকে নিজেকে পুরোপুরি আড়ালে সরিয়ে নেন এই রহস্যময়ী অভিনেত্রী।