ঢালিউডের মেগাস্টার শাকিব খানের বহুল আলোচিত এবং প্রত্যাশিত সিনেমা ‘অপারেশন অগ্নিপথ’ নিয়ে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান হতে যাচ্ছে। নানা জটিলতা ও প্রতিকূলতার কারণে প্রায় এক দশক ধরে থমকে থাকা এই প্রজেক্টটি এখন নতুন পরিকল্পনা ও উদ্যমে পুনরায় শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ফলে দীর্ঘ অপেক্ষার পর আবারও বড় পর্দায় ফিরে আসার পথে রয়েছে এই হাই-ভোল্টেজ অ্যাকশন-থ্রিলার সিনেমাটি।

উল্লেখ্য যে, অস্ট্রেলিয়ায় সিনেমাটির প্রথম ধাপের দৃশ্যধারণ সম্পন্ন হওয়ার পর এবং একটি আকর্ষণীয় টিজার প্রকাশের পর দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা তৈরি হয়েছিল। শাকিব খানকে সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী ও চ্যালেঞ্জিং একটি অ্যাকশন চরিত্রে দেখার জন্য মুখিয়ে ছিলেন তার কোটি কোটি ভক্ত। তবে নির্মাণের বিভিন্ন পর্যায়ে অভ্যন্তরীণ কিছু জটিলতা এবং নানা ধরনের টানাপোড়েনের কারণে একসময় সিনেমাটির কাজ পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়ে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, বর্তমান সময়ের দর্শকদের রুচি এবং আধুনিক চলচ্চিত্র নির্মাণের উন্নত ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে সিনেমাটির মূল গল্পে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হবে। গল্পের মূল কাঠামো অপরিবর্তিত রেখে এতে নতুন কিছু উপাদান ও নাটকীয় মোচড় যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে নির্মাতাদের। এই নতুন পরিকল্পনা নিয়ে প্রযোজক, পরিচালক এবং অভিনেতা শাকিব খান—তিন পক্ষই নীতিগতভাবে একমত হয়েছেন এবং কাজ শুরুর ব্যাপারে সবুজ সংকেত দিয়েছেন।

গল্পের পরিবর্তনের পাশাপাশি সিনেমাটির অভিনয়শিল্পীদের তালিকাতেও কিছু রদবদল আসতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে। তবে পুরো প্রকল্পের প্রধান আকর্ষণ এবং কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে থাকছেন শাকিব খানই। নতুন কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী বছর থেকেই সিনেমাটির মূল দৃশ্যধারণের কাজ শুরু করার কথা রয়েছে।

ভার্টেক্স মিডিয়ার ব্যানারে জানে আলমের প্রযোজনায় নির্মিত হচ্ছে এই উচ্চবাজেটের সিনেমা ‘অপারেশন অগ্নিপথ’। সিনেমাটির পরিচালনা করছেন দক্ষ নির্মাতা আশিকুর রহমান। নির্মাণ প্রক্রিয়ায় সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক মানের কৌশল ব্যবহারের পাশাপাশি শাকিব খানকে পর্দায় সম্পূর্ণ নতুনভাবে উপস্থাপনের বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০২৭ সালের ঈদের বাইরের কোনো সুবিধাজনক সময়ে দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে পারে এই বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমাটি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর নতুন আঙ্গিকে ‘অপারেশন অগ্নিপথ’ সত্যিই পর্দায় ফিরলে তা শাকিব-ভক্তদের পাশাপাশি পুরো ঢালিউড ইন্ডাস্ট্রিতেই নতুন করে প্রাণসঞ্চার করবে বলে মনে করা হচ্ছে।