প্রয়াত চিত্রনায়ক সালমান শাহকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার খলনায়ক আশরাফুল হক ডনকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এই রিমান্ড আবেদনের প্রেক্ষিতে শুনানির জন্য আগামী বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দিন ধার্য করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালত।
রোববার (২৩ আগস্ট) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক মজিবুর রহমান ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই আবেদন দাখিল করেন। আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সিআইডির দাখিল করা রিমান্ড আবেদনে মূলত তিনটি প্রধান কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। আবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, আসামি আশরাফুল হক ডনকে বিস্তারিত ও নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে এই আলোচিত হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে এই অপরাধে জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের বর্তমান অবস্থান শনাক্ত করা এবং তাদের দ্রুত গ্রেপ্তারের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করছে তদন্তকারী সংস্থা। এছাড়া, তার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ডন কী উদ্দেশ্যে এবং কার প্ররোচনায় বা ইন্ধনে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, সেই রহস্য উদঘাটনের জন্যও তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা অত্যন্ত প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা আসামির উপস্থিতিতে রিমান্ড শুনানির জন্য আগামী বৃহস্পতিবার তারিখ নির্ধারণ করেছেন। উল্লেখ্য, এর আগে গত ৯ আগস্ট ভোরে বিমানবন্দর এলাকা থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশ ডনকে আটক করে। আটক করার পর একই দিনে তাকে আদালতে হাজির করা হলে তদন্ত কর্মকর্তা মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে রাখার আবেদন জানান। শুনানি শেষে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এই মামলার প্রেক্ষাপট 살펴보 দেখা যায়, গত বছরের ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। উক্ত মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার আসামি তালিকায় সালমান শাহের স্ত্রী সামিরা হক, শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদসহ মোট ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চিত্রনায়ক সালমান শাহের মৃত্যুর পর রমনা থানায় প্রথমে একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় পর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে মামলাটিকে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়। এরপরই সালমান শাহের মামা রমনা থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই হত্যা মামলাটি দায়ের করেন।




















