"জুলাই অভ্যুত্থান কোনো একক দল বা ব্যক্তির নয়, বরং এটি গণতন্ত্র ও শান্তিকামী সব মানুষের অর্জন"—এই কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (৪ জুলাই) সকাল ১০টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র) ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন’ ও স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের স্মৃতিচারণ ও আকুতি শুনে অশ্রুসিক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী তার এই বক্তব্য প্রদান করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বিগত ১৭ বছর ধরে তার ও তার পরিবার এবং দেশের সাধারণ মানুষের ওপর যে চরম অবিচার করা হয়েছে, আল্লাহ এখন তাকে সেই সবের প্রতিশোধ নেওয়ার ক্ষমতা দিয়েছেন। তবে তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, তিনি ব্যক্তিগত কোনো প্রতিশোধ নিতে চান না। তিনি আরও বলেন, "আমি ১৭ বছর আগে দেশ ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছিলাম। দীর্ঘ সময় পর দেশে ফিরে এসে লক্ষ্য করলাম, আমার অনেক সহকর্মীকে আর পাশে পাইনি। ছাত্রদলের অনেক সদস্যকে আমি রেখে গিয়েছিলাম, যাদের অনেককেই আর খুঁজে পাওয়া যায়নি; অনেকে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন।"
জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার ব্যাপারে দৃঢ়তা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী, তাদের অবশ্যই বিচার করা হবে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, বিচারের নামে যেন কোনো অবিচার না হয়, সেদিকে বিশেষ লক্ষ্য রাখতে হবে। সময় নিয়ে হলেও প্রত্যেক হত্যাকারীর সঠিক ও ন্যায়সঙ্গত বিচার নিশ্চিত করা হবে।
উল্লেখ্য যে, ‘৩৬ জুলাই’ অর্থাৎ ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি’ ও ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’ যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে গণঅভ্যুত্থানে প্রাণ হারানো কয়েকজন শহীদের পরিবারের সদস্য মঞ্চে এসে তাদের সন্তান ও স্বজনদের হারানোর লড়াকু দিনগুলোর স্মৃতি তুলে ধরেন। এ সময় এক শহীদ জননী তার সন্তানের আত্মত্যাগের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লে উপস্থিত সবার মধ্যে এক গভীর আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মিলনায়তনে উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের পাশাপাশি সামনের সারিতে বসা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও তার অশ্রু ধরে রাখতে পারেননি। অকপটভাবেই তার চোখে পানি চলে আসে এবং তার দু’চোখে পানি টলমল করতে দেখা যায়।











