বরিশালের অগ্রণী হাউজিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল আজিজ হাওলাদারের কার্যালয়ে সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। উক্ত ভিডিওতে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু নামের এক ব্যক্তির সাথে বিতর্কিত পরিস্থিতির কথা সামনে এসেছে। তবে অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটু ভিডিওর বিষয়টি স্বীকার করলেও একে রাজনৈতিক কোনো বিষয় হিসেবে দেখছেন না। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, তাকে সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

লিটুর দাবি, ভিডিওতে যা দেখা যাচ্ছে তা সম্পূর্ণ বাস্তব নয়; বরং ভিডিওটি নির্দিষ্ট অংশ কাটছাঁট করে প্রচার করা হয়েছে। তিনি জোরপূর্বক স্ট্যাম্প বা চেকে সই করানোর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বাস্তব পরিস্থিতি ভিডিওর চেয়ে ভিন্ন। বরিশাল নগরীর কাটপট্টি রোড এলাকার বাসিন্দা লিটু আরও অভিযোগ করেন যে, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল আজিজ হাওলাদার হাউজিং ব্যবসায় তার সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। অগ্রণী হাউজিংয়ের একজন পরিচালক হিসেবে লিটুর দাবি, এমডির কাছে তার ৫৪ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে, যদিও এমডির দাবি তা ৩৬ লাখ টাকা। এই আর্থিক হিসাবের গরমিল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছে।

অভিযোগের বহর আরও বাড়িয়ে লিটু জানান, বিগত শাসন আমলে এমডি তাকে এবং তার আপন ভাইকে 'জামায়াত' বলে অভিহিত করে পুলিশ দিয়ে হয়রানি করিয়েছেন। এছাড়া হাউজিংয়ের আরেক পরিচালক মিজান ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন এবং এর পেছনে এমডির প্রত্যক্ষ হাত থাকার কথা উল্লেখ করেন। এমনকি ২০১৬ সালে এমডির আপন ভাইয়েরাও তার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছিলেন বলে লিটু জানান। টাকা লেনদেনের বিষয়ে তার ছোট ভাই মামলা করেছেন বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।

এই পুরো ঘটনায় অগ্রণী হাউজিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল আজিজ হাওলাদার কোনো ধরনের বক্তব্য দিতে রাজি হননি। অন্যদিকে, লিটুর বড় ভাই এবং বরিশাল মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি মাহাবুবুর রহমান পিন্টু জানান, বিস্তারিত ঘটনা তার জানা নেই, তবে লিটু অগ্রণী হাউজিংয়ের সাথে ব্যবসায়িক লেনদেনে জড়িত ছিলেন।

ঘটনা প্রসঙ্গে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আল মামুন উল ইসলাম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি তিনি দেখেছেন। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।