শৈশব থেকেই ব্রাজিল ফুটবল দলের প্রতি এক গভীর অনুরাগ রয়েছে ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জান্নাতুল সুমাইয়া হিমির। তবে এই ফুটবল প্রেম হঠাৎ করে গড়ে ওঠেনি, বরং পরিবারের প্রভাবেই তার মধ্যে এই পছন্দের বীজ রোপিত হয়েছে। ফুটবল বিশ্বকাপের শুরু থেকেই নিজেকে ব্রাজিলের এক কট্টর সমর্থক হিসেবে প্রমাণ করেছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার প্রতিটি পোস্টে ফুটে উঠেছে প্রিয় দলের প্রতি তার সেই অদম্য ভালোবাসা ও আবেগ। তবে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিদায় যেন তাকে স্তব্ধ করে দেয়। প্রিয় দলের এমন আকস্মিক প্রস্থানে মন ভেঙে গেলেও, ফুটবলের প্রতি তার উন্মাদনা স্তিমিত হয়নি। বরং ব্রাজিলের বিদায়ের পর তিনি তার সমর্থনের কেন্দ্রবিন্দু সরিয়ে নেন ফ্রান্সের দিকে। এবারের আসরের অন্যতম শক্তিশালী দল ছিল ফ্রান্স, যাকে ঘিরে নতুন স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন হিমি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফ্রান্সের সমর্থনে একাধিক পোস্ট করতে দেখা যায় তাকে। যদিও সেমিফাইনালে এসে হঠাৎ ছন্দ হারিয়ে বিদায় নেয় ফ্রান্স, অন্যদিকে দুর্দান্ত দলীয় নৈপুণ্যের প্রমাণ দিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে স্পেন।
ফুটবল বিশ্বে অনেক সময় দেখা যায়, নিজের প্রিয় দল বাদ পড়লে সমর্থকরা তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলের প্রতিপক্ষকে সমর্থন জানাতে শুরু করেন। ভক্তদের এই উন্মাদনার মিছিলে যোগ দিয়েছেন অভিনেত্রী হিমিও। আর্জেন্টিনার খেলার আগে তাদের প্রতিপক্ষ দল ইংল্যান্ডের জার্সি পরা একটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করে সবার নজর কেড়েছেন তিনি। সেই ছবির ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, 'প্রিয় ইংল্যান্ড, তোমরাই চ্যাম্পিয়ন হবে! এটাই আমার বিশ্বাস।' আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ডের সেই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচের জন্য শুভকামনা জানালেও একটি বিষয় তিনি স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন—আর্জেন্টিনা যেন কোনোভাবেই শিরোপা না জিতে। সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ডকে হিমির সমর্থন জানানো ছিল মূলত সেই ইচ্ছারই বহিঃপ্রকাশ। তবে আর্জেন্টিনাকে উদ্দেশ্য করে তার এই খোঁচা দেওয়ার প্রবণতা নতুন কিছু নয়। পুরো বিশ্বকাপ জুড়ে বিভিন্ন সময়ে আর্জেন্টিনাকে লক্ষ্য করে একাধিক ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট করেছেন এই অভিনেত্রী। কখনও আর্জেন্টিনাকে বিদ্রূপ করে 'ফিফান্টিনা' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, আবার কখনও দলটিকে খোঁচা দিয়ে লিখেছেন, 'আজ এক দলের স্বপ্ন যাবে বাড়ি।' এমনকি কখনও কখনও তিনি রসিকতা করে লিখেছেন, 'জীবনটা যদি আর্জেন্টিনার মতো সহজ হতো!' তবে দলটির জন্য শুভকামনা জানাতেও তিনি ভুলেননি, যদিও তা ছিল চরম বিদ্রূপাত্মক। ফিফা যেন বেশি বেশি ফ্রি-কিক আর পেনাল্টি দিয়ে আর্জেন্টিনার খেলা সহজ করে দেয়—এমন প্রত্যাশার কথা জানিয়ে নেটিজেনদের মাঝে হাস্যরসের সৃষ্টি করেছেন তিনি।
হিমির এই ফুটবল উন্মাদনা কেবল পোস্টের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, তিনি ডিজিটাল প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি করেন বেশ কিছু কাল্পনিক ছবি। নেইমার ও ভিনিসিয়াসের সঙ্গে চা খাওয়ার এক কল্পিত ছবিতে নিজেকে যুক্ত করে তিনি লিখেছিলেন, 'ম্যাচের আগে এক কাপ চায়ের আড্ডায়।' আবার কখনও নেইমারের সঙ্গে একটি সেলফি তোলার কল্পিত ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, 'ম্যাচ শুরুর আগে নেইমারের সঙ্গে একটি সেলফি।' এমনকি নেইমারের সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ার কাল্পনিক ছবিও তার সংগ্রহে ছিল। সেসব ছবিতে মেসি ও রোনালদোর উপস্থিতিতে নেইমারের খেলা দেখার দৃশ্যও ফুটিয়ে তুলেছিলেন তিনি। ব্রাজিলের প্রতি তার মুগ্ধতা আরও স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায় যখন তিনি দেশটির পতাকার আদলে শাড়ি পরে ছবি পোস্ট করেন। শুধু তিনি নন, তার পোষ্য বিড়ালদেরও বাদ দেননি। ভিন্ন তিন বিড়ালের গায়ে ব্রাজিলের জার্সি পরিয়ে তাদের হাজির করেছিলেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত ব্রাজিলের বিদায় তাকে গভীরভাবে মর্মাহত করে। প্রিয় নেইমারকে নিয়ে এক আবেগঘন বার্তায় তিনি লিখেছেন, 'মাঠে বল পায়ে সেই নিখুঁত ড্রিবলিং আর শিল্পের ছোঁয়া হয়তো আর দেখা যাবে না। ইনজুরি হয়তো তোমাকে অনেক ভুগিয়েছে, কিন্তু আমাদের হৃদয়ে তুমি সবসময়ই চ্যাম্পিয়ন। ফুটবলকে এতটা আনন্দদায়ক করার জন্য ধন্যবাদ নেইমার।'
ব্রাজিলের বিদায়ের পর ফ্রান্সকে ঘিরে যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেখানেও ছিল তার নিজস্ব সৃজনশীলতা। এমবাপ্পের সঙ্গে চা খাওয়ার একটি ছবি তৈরি করে তিনি লিখেছিলেন, 'চা খাওয়ার টাকাটাই লস, এমবাপ্পে তুমি দেখিয়ে দাও।' সেই ছবির পেছনেই দাঁড়িয়ে ছিলেন নেইমার, যা দেখে নেটিজেনরা সহজেই বুঝতে পারেন অভিনেত্রী কী বুঝাতে চেয়েছেন। অন্য একটি ছবিতে নিজেকে রিকশার চালকের আসনে বসিয়ে এমবাপ্পেকে ঢাকা শহর ঘুরিয়ে দেখানোর মজার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন তিনি। তবে ফ্রান্সের বিদায়ের পর তার শেষ ভরসা গিয়ে ঠেকেছে ইংল্যান্ডের ওপর। হিমির এভাবে বারবার দল বদলের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মন্তব্যের ঘর হাস্যরসে ভরে উঠেছে। আধুনিক যুগে ফুটবলের রোমাঞ্চ এখন আর কেবল মাঠের ৯০ মিনিটে সীমাবদ্ধ নেই। বল গড়ানোর অনেক আগেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে ডিজিটাল দুনিয়ায়। সমর্থকদের পোস্ট, ট্রল, ভবিষ্যদ্বাণী আর পাল্টাপাল্টি মন্তব্যের মাধ্যমে ম্যাচ-পূর্ব লড়াই এখন আরও রঙিন হয়ে উঠেছে, যার এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে উঠেছেন অভিনেত্রী জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি।











