বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করলেও সাবেক রাষ্ট্রপতির জন্য রাষ্ট্র নির্ধারিত বেশ কিছু বিশেষ সুযোগ-সুবিধার বিধান রয়েছে। মূলত ‘রাষ্ট্রপতির অবসরভাতা, আনুতোষিক ও অন্যান্য সুবিধা আইন, ২০১৬’ অনুযায়ী এই সুবিধাগুলো প্রদান করা হয়। সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শারীরিক অসুস্থতা ও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ায় বিষয়টি পুনরায় আলোচনায় এসেছে। জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করার পর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

আইন অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করে মেয়াদ পূর্ণ করলে অথবা পদত্যাগ করলে তিনি অবসরভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার দাবিদার হন, তবে শর্ত থাকে যে তাকে অন্তত ছয় মাস এই পদে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আর্থিক সুবিধার কথা বলা হলে দেখা যায়, একজন সাবেক রাষ্ট্রপতি তার সর্বশেষ মূল বেতনের ৭৫ শতাংশ হারে মাসিক অবসরভাতা পাওয়ার অধিকারী। বর্তমান বেতন কাঠামোর হিসাব অনুযায়ী, এই টাকার পরিমাণ প্রতি মাসে প্রায় ৯০ হাজার টাকা। তবে এখানে একটি বিশেষ শর্ত রয়েছে; রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে যদি ওই ব্যক্তি অন্য কোনো সরকারি চাকরি থেকে অবসরভাতা পেয়ে থাকেন, তবে তিনি দুটি অবসরভাতার মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিতে পারবেন।

মাসিক অবসরভাতার পাশাপাশি সাবেক রাষ্ট্রপতি চাইলে এককালীন আনুতোষিক বা গ্র্যাচুইটি গ্রহণের সুযোগ পান। তবে এই সুবিধা নিতে হলে অবসরের এক মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হয়। আইনের বিশেষ বিধান অনুযায়ী, যদি কোনো সাবেক রাষ্ট্রপতি অবসরভাতা গ্রহণের আগেই মৃত্যুবরণ করেন, তবে ধরে নেওয়া হবে যে তিনি আনুতোষিক গ্রহণে আগ্রহী ছিলেন। সেক্ষেত্রে তার মনোনীত ব্যক্তি অথবা আইনগত উত্তরাধিকারীরা উক্ত আনুতোষিক পাওয়ার অধিকারী হবেন।

আর্থিক সুবিধার বাইরেও সাবেক রাষ্ট্রপতিদের জন্য প্রশাসনিক ও জীবনযাত্রার বিভিন্ন বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে একজন ব্যক্তিগত সহকারী এবং একজন সহায়ক কর্মীর নিয়োগ, যার যাবতীয় সরকারি ব্যয় রাষ্ট্রভার বহন করবে। এছাড়া তিনি একজন মন্ত্রীর সমপর্যায়ের সরকারি চিকিৎসাসেবা পাবেন। পাশাপাশি কূটনৈতিক পাসপোর্ট, বাসভবনে টেলিফোন সংযোগ এবং নির্ধারিত বিল সুবিধার ব্যবস্থা রয়েছে। দেশের অভ্যন্তরে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সার্কিট হাউস বা রেস্ট হাউসে বিনামূল্যে থাকার সুযোগ এবং সরকারি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য সরকারি যানবাহন ব্যবহারের সুবিধাও দেওয়া হয়।

তবে এই সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা ও শর্তাবলিও বিদ্যমান। আইন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব শেষ করার পর যদি কোনো সাবেক রাষ্ট্রপতি এমন কোনো সরকারি পদে就任 করেন যেখান থেকে তিনি সংযুক্ত তহবিল থেকে বেতন বা অন্য কোনো আর্থিক সুবিধা পান, তবে এই আইনের আওতায় নির্ধারিত অবসরভাতা বা অন্যান্য সুবিধা আর প্রযোজ্য হবে না। এছাড়া যদি কোনো সাবেক রাষ্ট্রপতি নৈতিক স্খলনজনিত কোনো অপরাধে আদালতের রায়ে দণ্ডিত হন, অথবা সুপ্রিম কোর্ট তাকে অসাংবিধানিক বা অবৈধভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণকারী হিসেবে ঘোষণা করে, তবে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সকল সুযোগ-সুবিধার অধিকার হারাবেন।