ইংরেজিতে কোনো সিনেমা বা ভিডিও দেখছেন, অধিকাংশ কথা সহজেই বুঝতে পারছেন। ইংরেজি সংবাদ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট পড়তেও তেমন কোনো বাধা নেই। কিন্তু যখনই কেউ ইংরেজিতে প্রশ্ন করেন, মুহূর্তেই যেন সব শব্দ মাথা থেকে উধাও হয়ে যায়! সহজ একটি বাক্য বলতেও কয়েকবার ভাবতে হয়। অথচ কথাটি শেষ করার পর মনে হয়, বিষয়টি তো খুব সহজ ছিল। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ইংরেজি শেখার ক্ষেত্রে এই অভিজ্ঞতাটি মোটেও নতুন নয়। স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত দীর্ঘ শিক্ষাজীবনে ইংরেজি পড়ার পরও অনেকেই ভাষাটি বুঝতে পারলেও সাবলীলভাবে কথা বলতে পারেন না।
এর অর্থ এই নয় যে তাদের ইংরেজি জ্ঞান নেই; বরং সমস্যাটি নিহিত রয়েছে ভাষা শেখা এবং সেই ভাষায় কথা বলার চর্চার মধ্যকার বিস্তর পার্থক্যের মাঝে। কোনো শব্দ দেখে তার অর্থ মনে করা আর কথা বলার সময় স্বতঃস্ফূর্তভাবে সেই শব্দটি ব্যবহার করার মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে। পড়া বা শোনার সময় আমরা সামনে থাকা শব্দগুলো চিনতে পারি, কিন্তু কথা বলার সময় মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে প্রয়োজনীয় শব্দ মনে করে সঠিক বাক্য গঠন করতে হয়। যারা নিয়মিত ইংরেজি পড়েন বা শোনেন কিন্তু কথা বলার চর্চা খুব কম করেন, তাদের ক্ষেত্রে ভাষাগত বোঝার দক্ষতা বলার দক্ষতার চেয়ে অনেক এগিয়ে থাকে।
এই জড়তা কাটাতে হলে মুখে বলার নিয়মিত চর্চার কোনো বিকল্প নেই। তবে অনেকের ক্ষেত্রে প্রধান বাধা ইংরেজি না জানা নয়, বরং ভুল করার ভয়। কথা বলার ঠিক আগমুহূর্তে মাথায় ঘুরপাক খায়—গ্রামার কি ঠিক আছে? উচ্চারণ কি সঠিক হচ্ছে? সামনের মানুষটি কী ভাববে? বিশেষ করে বন্ধু বা সহপাঠীদের সামনে ভুল ইংরেজি বললে কেউ উপহাস করতে পারে, এমন আশঙ্কা কাজ করে। এর ফলে সহজ কথা বলার আগেও অতিরিক্ত চিন্তা শুরু হয়, যা স্বাভাবিক কথা বলার গতি কমিয়ে দেয়। অনেক সময় জানা কথাটিও আর বলা হয়ে ওঠে না। কিন্তু মনে রাখা প্রয়োজন, নতুন কোনো ভাষায় কথা বলতে গিয়ে ভুল হওয়াটাই স্বাভাবিক। প্রতিটি বাক্য নিখুঁত করার চেষ্টা করতে থাকলে সাবলীল কথোপকথন চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তাই জড়তা কাটিয়ে আত্মবিশ্বাসের সাথে কথা বলাই হলো ভাষা শেখার আসল সোপান।




















