বগুড়ার শিবগঞ্জে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারীর গাড়ির ধাক্কায় আহত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৭৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধার। নিহত বৃদ্ধার নাম ফিরোজা বেগম। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বেলা সোয়া ১১টার দিকে বগুড়ার টিএমএসএস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক ব্রিজের সামনে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার সময় জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী ঢাকা থেকে জয়পুরহাটের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। তার গাড়িবহর যখন কিচক ব্রিজের সামনে পৌঁছায়, তখন ফিরোজা বেগম রাস্তা পার হচ্ছিলেন। তাকে বাঁচাতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রীর গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাকে ধাক্কা দেয় এবং রাস্তার পাশের নিচু জমিতে নেমে যায়। এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী নিজেও পায়ে আঘাত পান।
প্রতিমন্ত্রীর গানম্যান মুক্তারুল জানান, দুর্ঘটনার সময় গাড়িতে প্রতিমন্ত্রী, তার স্ত্রী, চালক এবং তিনি নিজে অবস্থান করছিলেন। দুর্ঘটনার পরপরই দ্রুত অন্য একটি গাড়িতে করে আহত প্রতিমন্ত্রীকে চিকিৎসার জন্য জয়পুরহাট সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অন্যদিকে, গুরুতর আহত অবস্থায় ফিরোজা বেগমকে উদ্ধার করে দ্রুত বগুড়ার টিএমএসএস হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর বেলা সোয়া ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়। বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইব্রাহীম আলী ফিরোজা বেগমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত ফিরোজা বেগম শিবগঞ্জের কিচক ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তার ভাতিজা মো. জাকির অত্যন্ত শোকাহত কণ্ঠে জানান, তার চাচি সকালে কিছু প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে এক আত্মীয়ের বাসায় যাচ্ছিলেন। বয়স্ক হওয়ার কারণে রাস্তা পার হওয়ার সময় তিনি হয়তো মন্ত্রীর গাড়িবহরের গতি বা উপস্থিতি খেয়াল করতে পারেননি, যার ফলে এই করুণ দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহতের আরেক ভাতিজা মোহাম্মদ ইমরান আলী নয়ন জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তবে তিনি পৌঁছানোর আগেই স্থানীয় লোকজন আহত ফিরোজা বেগমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন। চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে, ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনুজ্জামান। তিনি জানান, প্রতিমন্ত্রী এবং সদর থানার ওসি নিহতের পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে সার্বক্ষণিক সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে।

















