সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীরাও নবম জাতীয় পে-স্কেলের আওতায় থাকছেন। অর্থ বিভাগের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করার পর নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে তাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিনের তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা ও সংশয়ের অবসান হয়েছে। এই ঘোষণাটি বিশেষ করে বেসরকারি খাতের শিক্ষা খাতের পেশাজীবীদের জন্য একটি বড় স্বস্তি নিয়ে এসেছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন-১ অনুবিভাগের উপসচিব জামিলা শবনম স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীরা যেহেতু জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা প্রাপ্ত হন, তাই তাঁরা স্বাভাবিকভাবেই নবম পে-স্কেলের আওতাভুক্ত হবেন। একই সুর শোনা গেছে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের কণ্ঠেও। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর এক পোস্টে নিশ্চিত করেছেন যে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন প্রদান করা হবে।
উল্লেখ্য যে, গত সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে 'জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬' অনুমোদনের পর এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে এক ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। তাঁরা নতুন কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত হবেন কি না, তা নিয়ে ব্যাপক সংশয় দেখা দেয়। এমনকি সে সময় মন্ত্রিপরিষদ সচিবও জানিয়েছিলেন যে, বিষয়টি পরবর্তীতে আরও স্পষ্টভাবে জানানো হবে। তবে এখন অর্থ বিভাগ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত নিশ্চয়তা পাওয়ায় সেই বিভ্রান্তি পুরোপুরি দূর হয়েছে।
২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল ঘোষণার পর দীর্ঘ ১১ বছর পর এবার নতুন বেতন কাঠামো পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। নতুন এই স্কেলে আগের মতোই ২০টি গ্রেড রাখা হয়েছে। তবে বেতন বৃদ্ধির হার আগের তুলনায় অনেক বেশি; গ্রেডভেদে মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। নতুন কাঠামোর আওতায় ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে। অন্যদিকে, প্রথম গ্রেডের নির্ধারিত বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে, যা সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই নতুন পে-স্কেল ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে মূল বেতন তিনটি ধাপে কার্যকর হবে। তবে অন্যান্য ভাতা একযোগে কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।
বর্তমানে দেশে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছয় লাখের বেশি শিক্ষক ও কর্মচারী এমপিওভুক্ত হিসেবে কর্মরত আছেন। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে প্রায় ৪ লাখ, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে প্রায় পৌনে ২ লাখ এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে ২৩ হাজারের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। এমপিওভুক্ত এই বিশাল জনগোষ্ঠী সরকারের কাছ থেকে মাসিক বেতন-ভাতার আর্থিক সহায়তা পান এবং জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী শতভাগ মূল বেতন প্রাপ্ত হন। ফলে নতুন এই পে-স্কেল কার্যকর হলে তাঁদের সামগ্রিক বেতন কাঠামোতে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে এবং অর্থনৈতিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে।
এর আগে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় বাড়িভাড়া ভাতা বাড়িয়ে মূল বেতনের ১৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এর আগে তাঁরা মাসিক নির্দিষ্ট ১ হাজার টাকা বাড়িভাড়া পেতেন, যা বর্তমান মুদ্রাস্ফীতির যুগে অত্যন্ত অপ্রতুল ছিল। নতুন পে-স্কেলের সাথে এই বর্ধিত ভাতার সমন্বয় তাঁদের আর্থিক চাপ আরও কমিয়ে আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।




















