বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাসের স্ট্রোককে কোনো সাধারণ দুর্ঘটনা হিসেবে দেখা যাবে না; বরং এটি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর পরিকল্পিত ও সুনিপুণ ব্যক্তিগত আক্রমণের এক করুণ পরিণতি বলে দাবি করেছেন বিএনপি নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বিস্তারিত পোস্টে তিনি এই গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেন।
রাশেদ খানের দাবি অনুযায়ী, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ক্রমাগত তীর্যক, আক্রমণাত্মক ও অপমানজনক মন্তব্যের কারণেই মির্জা আব্বাস মৃত্যুর মুখোমুখি হয়ে গিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে মির্জা আব্বাসের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, সংসদে কথা বলার সময় মির্জা আব্বাসের কণ্ঠস্বর ছিল অত্যন্ত আবেগপূর্ণ এবং তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন, যা শুনে উপস্থিত পুরো সংসদ স্তব্ধ হয়ে যায়। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মির্জা আব্বাস এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেননি এবং তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। তিনি নিজে স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারেন না, দেখে পড়ার চেষ্টা করলেও তার ভাষা অস্পষ্ট হয়ে যায় এবং তার এক হাত নাড়াতেও চরম কষ্ট হয়।
নির্বাচনের পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সময়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর আচরণ নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাশেদ খান। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে বয়সে অনেক ছোট হওয়া সত্ত্বেও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর চরম বেয়াদবি ও অশালীন আচরণ সহ্য করতে হয়েছে মির্জা আব্বাসকে। নির্বাচনের পর সেই মানসিক নির্যাতন থামেনি, বরং তা আরও প্রকট ও নিষ্ঠুর হয়ে উঠেছে। এমনকি মির্জা আব্বাস যখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন, সেই চরম অসুস্থ অবস্থায় তাকে নিয়ে অত্যন্ত অমানবিক ও কুরুচিপূর্ণ আচরণ করা হয়েছে বলে দাবি করেন রাশেদ খান। তিনি অভিযোগ করেন, পাটওয়ারী হাসপাতালের বিছানায় থাকা মির্জা আব্বাসের একটি প্রতিকৃতি তৈরি করে তার সাথে ‘বক্সিং’ করার মতো জঘন্য ও অ thể ক্ষমার কাজ করেছেন।
সাধারণত শারীরিক অসুস্থতার জন্য কাউকে সরাসরি দায়ী করা যায় না—এই যুক্তির বিপরীতে রাশেদ খান বলেন, দীর্ঘমেয়াদী ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং চরম মানসিক যন্ত্রণার ফলে সৃষ্ট তীব্র মানসিক চাপ মানুষকে স্ট্রোকের দিকে ঠেলে দিতে পারে। তার মতে, দিনের পর দিন চলে আসা এই পরিকল্পিত মানসিক নিপীড়নই মির্জা আব্বাসের স্ট্রোকের মূল কারণ।
মির্জা আব্বাসের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন ও অবদান স্মরণ করে রাশেদ খান বলেন, ঢাকার বুকে দাপটের সাথে রাজনীতি করা, ৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকাকে সংগঠিত করা এবং দীর্ঘ ১৬ বছর অসংখ্যবার কারাবরণ করার মতো একজন অভিজ্ঞ ও সাহসী নেতাকে এভাবে অপমান করা হয়েছে। তাকে ওসমান হাদী হত্যার সাথে জড়িয়ে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া এবং হাসপাতালে তার ওপর ‘মব’ করার চেষ্টার মতো ঘটনাগুলো তিনি মানসিকভাবে মেনে নিতে পারেননি।
পরিশেষে রাশেদ খান পুনরায় জোরালোভাবে দাবি করেন, দীর্ঘদিনের এই মানসিক যন্ত্রণা ও নিপীড়নের চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবেই মির্জা আব্বাস স্ট্রোকের কবলে পড়েছেন। তার স্পষ্ট ভাষায় বলা, মির্জা আব্বাসের এই শারীরিক বিপর্যয় কোনো আকস্মিক দুর্ঘটনা নয়, বরং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর পরিকল্পিত ব্যক্তিগত আক্রমণের এক ভয়াবহ ও পরিকল্পিত ফলাফল।


















