নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে প্রায় ৫০০ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক বড় সরদার বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি কোক স্টুডিও বাংলা সিজন ৪-এর ‘পাতার বাঁশরি’ গানের ভিডিও শুটিংয়ের সময় বাড়িটির বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠন ও সাধারণ মানুষ। এই ঘটনার পর থেকে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
ঐতিহাসিক বড় সরদার বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ মানুষ, বিশিষ্টজন এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ‘সোনারগাঁয়ের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ কমিটি’ একটি সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে। সেখানে তারা ঐতিহাসিক স্থাপনাটির ক্ষয়ক্ষতির সুষ্ঠু তদন্তসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় যে, বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের (সোনারগাঁও জাদুঘর) আওতাধীন এই ঐতিহাসিক বড় সরদার বাড়ির বাণিজ্যিক ব্যবহার এবং এর ফলে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির ভেতরে ব্যাপক আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তারা এই সমস্ত অনিয়মের একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। একই সঙ্গে কারুপল্লীতে প্রকৃত কারুশিল্পীদের বঞ্চিত করা এবং দোকান বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
এদিকে, বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্র আন্দোলনের সোনারগাঁও শাখা থেকেও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, বড় সরদার বাড়িটি কেবল একটি স্থাপনা নয়, বরং এটি আমাদের বাঙালি ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক অমূল্য অংশ। মুঘল আমলে প্রতিষ্ঠিত এই বাড়িটি দীর্ঘকাল ধরে আমাদের গৌরবময় ইতিহাসকে ধারণ করে আছে। বর্তমানে এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটির সার্বিক তদারকি, প্রশাসন ও পর্যবেক্ষণের মূল দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন, যা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান।
অভিযোগ উঠেছে, কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ইভেন্টের জন্য বাড়িটি ভাড়া দেয়। তবে অত্যন্ত দুঃখজনক যে, সম্প্রতি একটি গানের শুটিংয়ের সময় এর অধিকাংশ জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা দাবি করেছেন, অনতিবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্ত অংশের সংস্কার করতে হবে এবং যারা এই ক্ষয়ক্ষতির জন্য দায়ী, তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।
এই পুরো বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের পরিচালক কাজী মাহবুবুল আলমের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে তাকে ফোন করে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি।




















