চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিকে অম্লান রাখতে এবং সেই চেতনার আলোকে দেশ পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ শীর্ষক ৩৬ দিনের বিশেষ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে দলটির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই বিস্তারিত কর্মসূচিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন দলটির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ।

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ১ জুলাই রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে শহীদদের কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে এই ৩৬ দিনের কার্যক্রম শুরু হবে এবং ৫ আগস্ট বিজয়ের উল্লাসের মধ্য দিয়ে এর সমাপ্তি ঘটবে। সংবাদ সম্মেলনে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, হাজারো শহীদের আত্মত্যাগ এবং ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অর্জিত নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের ইতিহাসে জুলাই মাসটি একটি অনন্য ও গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। এই ঐতিহাসিক মাসকে যথাযথ মর্যাদায় স্মরণ করতে এবং গণঅভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষাগুলো নতুন প্রজন্মসহ দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতেই "দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ" শীর্ষক মাসব্যাপী এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

জুলাই মাসজুড়ে দেশব্যাপী আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পদযাত্রা, ব্যাপক গণসংযোগ, শহীদদের স্মরণ সভা এবং বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। বিশেষ করে পেশাজীবী এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণে বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ দিন এবং ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহকে জাতির সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হয় যে, ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচির সূচনা হবে ১ জুলাই রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে কবর জিয়ারতের মাধ্যমে। একই দিনে ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র সংগঠনগুলোর সংহতি সভা অনুষ্ঠিত হবে এবং উপজেলা পর্যায়ে মাসব্যাপী পদযাত্রার একটি পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ ঘোষণা করা হবে। এরপর ২ থেকে ৮ জুলাই পর্যন্ত দেশব্যাপী গ্রাফিতি, দেয়াল লিখন এবং ব্যানার-ফেস্টুনের মাধ্যমে ‘জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচি পালন করা হবে।

মাসব্যাপী এই কর্মসূচিতে আরও থাকছে ফুটবল টুর্নামেন্ট, নারী সমাবেশ, কৃষকদের প্রত্যাশা ও দাবি নিয়ে বিশেষ আলোচনা, কফিন মিছিল এবং প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ‘রেজিস্ট্যান্স ডেস্ক’ স্থাপন। এছাড়া উত্তরার রক্তাক্ত জুলাই, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ভূমিকা, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অবদান এবং আহতদের স্মৃতিচারণের পাশাপাশি যুব কনভেনশন, শ্রমিক সমাবেশ ও উদ্যোক্তাদের নিয়ে বিশেষ আলোচনা সভার পরিকল্পনা করা হয়েছে। শুধু দেশের ভেতরেই নয়, এনসিপি ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্সের উদ্যোগে প্রবাসেও মাসব্যাপী এই কর্মসূচি পালিত হবে।

এই বিশাল কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ‘জুলাই পুনর্জাগরণ বাস্তবায়ন কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) ও গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ। সদস্যসচিবের দায়িত্বে রয়েছেন দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ। এ ছাড়াও কমিটিতে আরও ২৬ জন সদস্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জুলাই পুনর্জাগরণ বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যসচিব আলী আহসান জুনায়েদ, সদস্য আরিফুল ইসলাম আদীব, সাইফ মোস্তাফিজ, তারিকুল ইসলাম, আকরাম হোসাইন সিএফ, আশরেফা খাতুন প্রমুখ।

বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, জুলাই শুধু একটি মাস নয়; এটি আত্মত্যাগ, গণআকাঙ্ক্ষা, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং একটি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রতীক। মাসব্যাপী এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো শহীদদের অবদান স্মরণ করা, গণঅভ্যুত্থানের চেতনা নতুন প্রজন্মের হৃদয়ে গেঁথে দেওয়া এবং দেশ গঠনের অঙ্গীকারকে আরও সুদৃঢ় করা। একই সঙ্গে তারা এই কর্মসূচিগুলোতে দেশের সর্বস্তরের নাগরিক, শিক্ষার্থী, তরুণ, সাংস্কৃতিক কর্মী ও পেশাজীবীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের জোরালো আহ্বান জানান।