রাজধানীর যানজট নিরসন এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকার আরও ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক সিগন্যাল পয়েন্টে এআই ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে শহরের ১৩টি প্রধান পয়েন্টে সেমি-অটোমেটেড ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যার মধ্যে বেশ কিছু পয়েন্টে পরীক্ষামূলকভাবে এআই ক্যামেরা যুক্ত করে এর কার্যকারিতা যাচাই করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এই প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে ট্রাফিক আইন অমান্যকারী যানবাহনগুলো খুব সহজেই শনাক্ত করা যাচ্ছে, যা ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল ও স্বচ্ছ করে তুলেছে। চালকদের মধ্যেও এআই ক্যামেরার উপস্থিতি নিয়ে ব্যাপক সচেতনতা তৈরি হয়েছে। অনেক চালক জানিয়েছেন, সিগন্যাল অমান্য করলে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় তারা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সতর্ক হয়ে গাড়ি চালাচ্ছেন।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও বিশৃঙ্খল অভ্যাস থেকে মানুষকে বের করে এনে শৃঙ্খলার আওতায় আনা রাতারাতি সম্ভব নয়। তবে নতুন এই ডিজিটাল সিগন্যাল ব্যবস্থা নিয়ে সাধারণ ನಾಗরিকদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে, যা আশাব্যঞ্জক।

তবে এই আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে কিছু সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, শুধুমাত্র ক্যামেরা বসিয়ে ট্রাফিক সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। সড়কে চলাচলকারী ফিটনেসবিহীন ও নিয়মবহির্ভূত যানবাহনের কঠোর নিয়ন্ত্রণ, যত্রতত্র পথচারীদের রাস্তা পারাপার এবং ব্যাটারিচালিত রিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল বন্ধ করা না গেলে এই ব্যয়বহুল প্রযুক্তির কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া কঠিন হবে।

নতুন এই সিগন্যাল ব্যবস্থা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত লোকবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে সম্পূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর করতে 'ট্রাফিক টেকনিক্যাল ইউনিট' নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠন করা হচ্ছে। এই ইউনিটের সদস্যদের বিশেষ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হচ্ছে, যাতে তারা আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারে।