সচিবালয়ে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বর্তমান ব্যবসায়িক প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর এই বিশেষ বৈঠকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও গতিশীল ও কার্যকর করার লক্ষ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা উঠে এসেছে।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার। তবে তিনি আক্ষেপের সাথে উল্লেখ করেন যে, গত দেড় বছরে কিছু প্রতিকূল পরিস্থিতি ও প্রতিবন্ধকতা তৈরি হওয়ায় বাণিজ্যিক কার্যক্রমে কিছুটা ধীরগতি পরিলক্ষিত হয়েছে। এই স্থবিরতার কারণগুলো চিহ্নিত করে ভবিষ্যতে কীভাবে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ককে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও কার্যকর করা যায়, তা নিয়ে বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে।

বাণিজ্যিক সম্পর্ককে পুনরায় সচল করতে এবং গতিশীল করতে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বন্ধ হয়ে থাকা সীমান্ত হাটগুলো পুনরায় চালু করা, স্থলবন্দরগুলোকে তাদের পূর্ণ সক্ষমতায় কার্যকর করা এবং স্থলপথে সুতা আমদানির ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি। বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, এই বাধাগুলো দূর হলে দুই দেশের ব্যবসায়ীরা আরও উৎসাহিত হবেন এবং বাণিজ্যের পরিধি বাড়বে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, চীনের পর বর্তমানে ভারত বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে, যা আরও শক্তিশালী করার সুযোগ রয়েছে। বৈঠকে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি যৌথ টাস্কফোর্স গঠন এবং ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি, ব্যবসায়িক সম্পর্কের সম্প্রসারণ এবং সামগ্রিক বাণিজ্যে গতি আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। বাণিজ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, ভারতীয় হাইকমিশনারের সক্রিয় উদ্যোগে আগামী দিনে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা এক নতুন মাত্রা লাভ করবে।

বৈঠকে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ ও ভারত দুটি সম্পূর্ণ স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। কোনো দেশই বড় বা ছোট নয়, বরং উভয় দেশই সমান মর্যাদার অধিকারী। এই সমতার ভিত্তিতেই দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে এবং সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। তিনি বিশ্বাস করেন, দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সহযোগিতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অর্থনৈতিক বন্ধন যত শক্তিশালী হবে, অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতার সুযোগ তত বৃদ্ধি পাবে।

যৌথ বিনিয়োগ ও উৎপাদনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত বিশ্বব্যাপী অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। এই খাতের সক্ষমতা আরও বাড়াতে ভারত জিপার, আধুনিক মেশিনারি এবং বোতামসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও উপকরণ সরবরাহের মাধ্যমে সহযোগিতা করতে পারে। এতে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরতা আরও বাড়বে। তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেখা পোশাক দেখে তিনি গর্ব অনুভব করেন। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাত দুই দেশের যৌথ উদ্যোগ ও সহযোগিতার মাধ্যমে আরও বড় পরিসরে এগিয়ে যেতে পারবে।