কুমিল্লার বুড়িচংয়ে ভাড়া বাসায় পিকআপচালকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার: নিখোঁজ দ্বিতীয় স্ত্রী

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের নিমসা এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় পিকআপচালকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার (১২ জুলাই) বিকেলে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে। ঘটনার পর থেকেই নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী রেহেনা বেগমের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না, যা ঘটনার রহস্যকে আরও ঘনীভূত করেছে।

নিহত পিকআপচালক মোহাম্মদ ইব্রাহিম (৩৫) ওই এলাকার বাসিন্দা ফরিদ মিয়ার ছেলে। পেশায় তিনি একজন পিকআপচালক ছিলেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইব্রাহিমের প্রথম স্ত্রী ও সন্তান থাকা সত্ত্বেও প্রায় ছয়-সাত মাস আগে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরপর দ্বিতীয় স্ত্রী রেহেনা বেগমকে নিয়ে নিমসার এই ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। তবে প্রথম স্ত্রী ও সন্তানের ভরণপোষণ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক কলহ ও তীব্র বিরোধ দেখা দিত বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, রবিবার দুপুরে পাশের ঘরের ভাড়াটিয়ারা ঘর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াতে দেখলে দ্রুত বাড়ির মালিককে বিষয়টি জানান। এরপর পুলিশে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ঘরের ভেতর থেকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ইব্রাহিমের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে।

তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মঞ্জুর রহমান জানান, মরদেহে পচন ধরেছে এবং প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিন থেকে চার দিন আগে ইব্রাহিমের মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে জানা যাবে।

বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান বলেন, ঘরটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলের প্রাথমিক আলামত ও পরিস্থিতি দেখে ধারণা করা হচ্ছে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে। নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী রেহেনা বেগমের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করার ভিত্তিতে পুলিশ মামলা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং এর সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।