২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট দেশের অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের পরিবর্তে বিদ্যমান সংকটকে আরও দীর্ঘায়িত করবে বলে মন্তব্য করেছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। জাতীয় সংসদে বাজেট পাস হওয়ার পর বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দলের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এই জাতীয় বাজেট সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন নয়; বরং এটি একটি আমলাতান্ত্রিক, ঋণনির্ভর এবং ঘাটতি বাজেট।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে দেশের মানুষ নির্বাচিত সরকারের কাছে যে নতুন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দর্শনের প্রত্যাশা করেছিল, বর্তমান বাজেটে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। বরং বিগত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী শাসনের ব্যর্থ অর্থনৈতিক কাঠামো এবং ভ্রান্ত পরিসংখ্যানের ধারাবাহিকতাই এই বাজেটে বহুলাংশে বজায় রাখা হয়েছে, যা অর্থনীতির প্রকৃত উন্নতির পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে।

বাজেটের দুর্বলতাগুলো তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব, সামাজিক বৈষম্য, দুর্নীতি এবং অর্থপাচারের মতো মৌলিক সংকটগুলো মোকাবিলায় এই বাজেটে কোনো কার্যকর রূপরেখা বা বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি। উৎপাদন বৃদ্ধি, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিবর্তে সাধারণ মানুষের ওপর ঋণের বোঝা বাড়ানো, করের চাপ বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বাড়ানোর পথই উন্মুক্ত করা হয়েছে। এতে করে সাধারণ মানুষের জীবন আরও দুর্বিষহ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার ছিল দুর্নীতি, লুটপাট, বৈষম্য এবং গোষ্ঠীস্বার্থনির্ভর রাষ্ট্রব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে একটি জবাবদিহিমূলক, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু বর্তমান বাজেটের রূপরেখায় সেই চেতনার কোনো সুস্পষ্ট প্রতিফলন ঘটেনি। ফলে এটি জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা এবং জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার সঙ্গে একেবারেই সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়নি।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ স্মরণ করিয়ে দেন যে, বাজেট প্রস্তাব ঘোষণার পরপরই এবি পার্টির পক্ষ থেকে জাতীয় বাজেটের পুর্নমূল্যায়নের জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছিল। একই সঙ্গে বাস্তব অর্থনৈতিক তথ্যের ভিত্তিতে পরিকল্পনা প্রণয়ন, রাষ্ট্রীয় অপচয় ও দুর্নীতি বন্ধ, প্রশাসনিক সংস্কার এবং উৎপাদন ও বিনিয়োগকেন্দ্রিক জনকল্যাণমুখী বাজেট প্রণয়নের দাবি জানানো হয়। তবে চূড়ান্ত বাজেটে সেই গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশগুলোর কোনো প্রতিফলন ঘটেনি বলে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন।

পরিশেষে তিনি বলেন, জনগণের অর্থে জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব। তাই অর্থনীতির পরিচালনা হতে হবে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ন্যায়বিচার এবং জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতির ভিত্তিতে। অন্যথায়, এই বাজেট অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের পরিবর্তে বিদ্যমান সংকটকে আরও গভীর ও দীর্ঘায়িত করবে।